গাংনীতে বেওয়ারিশ কুকুরের তাণ্ডব, নারী-শিশুসহ আহত ২০
ফাইল ছবি
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় এক মাসের ব্যবধানে আবারও বেওয়ারিশ কুকুরের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার উপজেলার বামন্দী ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে ৪ থেকে ৫টি বেওয়ারিশ কুকুরের দলবদ্ধ হামলায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে কয়েকটি গবাদিপশুও কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিনব্যাপী এ ঘটনায় পুরো রামনগর গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা একটি কুকুরকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন- জিনারুল ইসলাম, ফাতেমা খাতুন, আবেদা খাতুন, রশিদুল ইসলাম, রেকছনা খাতুন, আসলাম হক, আকলিমা খাতুন, নবির হোসেন, জিহাদ আলী, আরিফুল ইসলাম, সাকিবুল হোসেন, জাকির হোসেন, রাফসান আলী, ফাতেমা বেগম ও হামিদা খাতুনসহ আরও অনেকে। তারা বর্তমানে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার সকাল থেকেই ৪ থেকে ৫টি কুকুর দলবেঁধে গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। সামনে যাকে পেয়েছে তাকেই কামড় দিয়েছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন গ্রামবাসী। অনেক অভিভাবক শিশুদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তাদের ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করেন।
কুকুরের কামড়ে আহত জিনারুল ইসলাম জানান, সরকারি হাসপাতালে ভিড় ও দীর্ঘ সময় অপেক্ষার আশঙ্কায় তিনি একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। প্রথম দিনেই চিকিৎসা ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন বাবদ তার প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। চিকিৎসক তাকে পরবর্তী সময়ে আরও কয়েক দফা ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আরেক আহত ব্যক্তি আরিফুল ইসলাম বলেন, মানুষ ছাড়াও কয়েকটি ছাগল কুকুরের হামলার শিকার হয়েছে। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
রামনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান খান বলেন, এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তার নিজের বাড়ির একটি ছাগলও কুকুরের হামলার শিকার হয়েছে। তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বামন্দী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম বলেন, বিভিন্ন গ্রামে ভবঘুরে কুকুরের সংখ্যা বাড়ছে। এতে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগও বাড়ছে। তিনি আহতদের দ্রুত সরকারি হাসপাতালে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নেওয়ার আহ্বান জানান।
গাংনী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, ২০২২ সালে দেশব্যাপী জলাতঙ্ক প্রতিরোধ কর্মসূচির আওতায় কুকুরের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। তবে বর্তমানে এ খাতে কোনো সরকারি বরাদ্দ বা নতুন নির্দেশনা নেই।
গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. একরামুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত রয়েছে। কুকুরে কামড়ানো ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে এসে ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিধি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ জুন গাংনী পৌর শহরে বেওয়ারিশ কুকুরের হামলায় বিভিন্ন বয়সী ১৭ জন আহত হয়েছিলেন। এক মাসের ব্যবধানে একই উপজেলায় দ্বিতীয়বারের মতো ব্যাপকভাবে মানুষ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় ভবঘুরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কর্মসূচির দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতিবার হামলার পর আশ্বাস দেওয়া হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে কবে?