বিতর্কিত অতীত ছাপিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে: কে এই স্লাভকো ভিনচিক?
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিক। আগামী রবিবার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই মেগা ফাইনালে তিনি প্রধান রেফারির ভূমিকা পালন করবেন। তবে ফুটবল মাঠে তার দারুণ ক্যারিয়ার থাকলেও মাঠের বাইরে রয়েছে তার বিতর্কিত অতীত।
২০২০ সালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একটি কেবিনে অভিযান চালিয়ে স্লাভকো ভিনচিককে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সেই অভিযানে পুলিশ একটি বড়সড় মাদক, অস্ত্র এবং দেহব্যবসা চক্রের সন্ধান পায়। ঘটনাস্থল থেকে ৯ জন নারী, ২৬ জন পুরুষ, ১৪ প্যাকেট কোকেন, ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩টি বুলেটপ্রুফ ভেস্ট এবং ১০ হাজার ইউরোরও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছিল।
সে সময় এই ঘটনা ফুটবল বিশ্বে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করে। তবে ভিনচিক শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সেদিনের ওই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আমি শুধু একটা লাঞ্চের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম, যা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল। আমি আমার পরিচিতদের সাথে একটা টেবিলে বসা ছিলাম, হুট করেই সেখানে পুলিশ হাজির হয়।’
পরবর্তীতে স্লোভেনিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টিকে একটি ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে আখ্যা দিয়ে ভিনচিকের পাশে দাঁড়ায় এবং জানায় যে তিনি স্রেফ ভুল সময়ে ভুল জায়গায় উপস্থিত ছিলেন।
মাঠের বাইরের বিতর্ক বাদ দিলে, ৪৬ বছর বয়সী ভিনচিকের রেফারিং ক্যারিয়ার বেশ নজরকাড়া। ২০১০ সাল থেকে তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করছেন এবং তাকে স্লোভেনিয়ার সেরা রেফারি মনে করা হয়।
তিনি ২০২৪ সালের রিয়াল মাদ্রিদ বনাম বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মধ্যকার বিখ্যাত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল এবং ২০২৩ সালের স্পেন বনাম ইতালির নেশনস লিগের সেমিফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালটি হতে যাচ্ছে তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ম্যাচ। চলতি বিশ্বকাপেই তিনি ব্রাজিল-মরক্কো এবং মেক্সিকো-ইকুয়েডরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো পরিচালনা করেছেন।
আর্জেন্টিনার ফুটবল ভক্তদের জন্য ভিনচিক বেশ পরিচিত এক নাম, তবে সেই স্মৃতি খুব একটা সুখকর নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের কাছে ২-১ গোলের ঐতিহাসিক হারের ম্যাচটিতে রেফারি ছিলেন এই ভিনচিক। অন্যদিকে, স্পেনের জাতীয় দল ভিনচিকের পরিচালনায় এখন পর্যন্ত কোনো ম্যাচ হারেনি।
বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি এই রেফারি। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, ‘প্রথমে এটি একটি বড় চমক ছিল, তারপর প্রচণ্ড আনন্দ হয়েছে। আমি আক্ষরিক অর্থেই কাঁপছিলাম। বিশ্বকাপের ফাইনাল পরিচালনা করা যেকোনো তরুণ রেফারির জন্য একটি স্বপ্নের মতো। আমি নিজের এবং আমার পুরো টিমের জন্য অত্যন্ত গর্বিত।’