দুই বছরের শিশু এখনো জানে না তার মা আর ফিরবে না
সংগৃহীত ছবি
আজ সুমাইয়া হত্যার দুই বছর। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময় নিজ বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে হেলিকপ্টার দেখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সুমাইয়া আক্তার।
সময় গড়িয়েছে, কিন্তু থেমে নেই একটি শিশুর নীরব অপেক্ষা। সুমাইয়ার একমাত্র কন্যা সুবাইয়ার বর্তমান বয়স ২ বছর ২ মাস ১৭ দিন। এতো ছোট বয়সে এখনো জানে না, তার মা আর কখনো ফিরবেন না। জন্মদাত্রীর স্নেহ ছাড়াই বড় হচ্ছে সুবাইয়া।
বর্তমানে সুবাইয়া তার আপন খালা আসমা আক্তারের কাছে লালিত-পালিত হচ্ছে। ছোট্ট শিশুটি খালাকেই নিজের মা হিসেবে চিনে নিয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, শিশুটির লালন-পালন ও ভবিষ্যতের ব্যয়ভার বহন করতে তারা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, সুবাইয়ার বাবা নিয়মিতভাবে সন্তানের খোঁজখবর বা দায়িত্ব নিচ্ছেন না।
সুমাইয়ার মা ও বোন সরকারের প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, সুমাইয়া হত্যার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে এতিম হয়ে যাওয়া শিশু সুবাইয়ার শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
প্রতিবেশি প্রান্ত বলেন, একটি শিশু যেন তার মা হারানোর বেদনার পাশাপাশি অবহেলার শিকার না হয়। তার প্রত্যাশা, ন্যায়বিচারের পাশাপাশি রাষ্ট্র সুবাইয়ার পাশে দাঁড়াবে, যাতে সে নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উত্তাল সময়ে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাইনাদী নতুন মহল্লায় নিজ বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে হেলিকপ্টার দেখতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সুমাইয়া আক্তার। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তার মাথার বাম পাশে গুলি লাগে এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ২২ আগস্ট সুমাইয়ার বড় বোনের স্বামী বাদী হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করা হয়।
পরে আদালতের নির্দেশে মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর, ২০ নভেম্বর, ময়নাতদন্তের জন্য পাইনাদী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কবরস্থান থেকে সুমাইয়ার লাশ উত্তোলন করা হয়।