রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত কিয়েভ

রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত কিয়েভ

সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী এই হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, এটি ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা। এতে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) গভীর রাত থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত চলে এই হামলা।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে ইস্কান্দার-এম ও হাইপারসনিক জিরকনসহ প্রায় ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে রাশিয়া। গভীর রাত দেড়টার দিকে বাসিন্দারা যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখনই বেজে ওঠে বিমান হামলার সতর্কসংকেত। প্রথমে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরোধের আওয়াজ, এরপর কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে রাজধানী।

এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। টানা হামলায় কিয়েভের ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বহু ভবন কেঁপে ওঠে। রাতভর হামলার পর ভোর সাড়ে ৬টার দিকেও নতুন করে আঘাত হানে রুশ বাহিনী।

হামলায় রাজধানীর শেভচেনকিভস্কি জেলার একটি তিনতলা ভবনে আগুন লেগে যায়। উদ্ধারকারীরা ভবনের ভেতর থেকে কয়েকজনকে জীবিত এবং একজনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এছাড়া রাজধানীর আরও চারটি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় অফিস, আবাসিক ভবন ও একটি ছাত্রাবাসে আগুন লাগে। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে লুকিয়ানিভস্কা মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথের ছাদ ধসে পড়ে। পরে স্টেশনটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

আঞ্চলিক প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খারকিভের কাছে একটি ডাকঘরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে খেরসন ও সুমি শহরেও পৃথক হামলায় অন্তত একজন করে নিহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর দাবি, সর্বশেষ এই হামলায় রাশিয়া রাজধানী কিয়েভকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২৫টি ড্রোনের মধ্যে ১০৮টি ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।

হামলার ভয়াবহতার বর্ণনা দিয়ে কিয়েভের ৪৭ বছর বয়সী বাসিন্দা গান্না জাগোরোদনিয়া এএফপিকে বলেন, একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র এসে বিস্ফোরিত হচ্ছিল, পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত আতঙ্কজনক। তার ভাষায়, ওই মুহূর্তে মনে হচ্ছিল জীবন বুঝি শেষ হয়ে যাচ্ছে।

পাল্টা হামলা
ইউক্রেনে রুশ হামলার মধ্যেই রাশিয়ার অভ্যন্তরে পাল্টা ড্রোন হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। মস্কো ও তাম্বোভ অঞ্চলের দুটি বড় ই-কমার্স গুদাম লক্ষ্য করে চালানো ওই হামলায় আটজন নিহত হয়েছে। সেই সঙ্গে গুদাম দুটিতে ভয়াবহ রকমের আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মস্কো ও তাম্বোভে চালানো এই ড্রোন হামলার দায় স্বীকার করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ইউক্রেনের জনপদে রুশ হামলার জবাব দিতেই রসদ সরবরাহ কেন্দ্র দুটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। জেলেনস্কির দাবি, কেন্দ্র দুটি ড্রোন উৎপাদন ও পরিচালনায় ব্যবহৃত নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছে জরুরি ভিত্তিতে আরও অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান