লক্ষ্মীপুরে নকল ঘি তৈরির অভিযোগে কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ

লক্ষ্মীপুরে নকল ঘি তৈরির অভিযোগে কারখানায় অভিযান, জরিমানা ৩ লাখ

ফাইল ছবি

লক্ষ্মীপুর বিসিক শিল্পনগরীতে বিদেশি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল ঘি উৎপাদনের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশের নেতৃত্বে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে বিসিক শিল্পনগরীর আবু তাহের ছানা কোম্পানিতে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটি ৫০ কার্টুন ঘি সরবরাহের অর্ডার নিয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে কারখানা থেকে ৩৮ কার্টুন নকল ঘি জব্দ করা হয়। প্রতিটি কার্টুনে ৯০০ গ্রাম ওজনের ১২টি করে পাত্র ছিল। জব্দ করা ঘি ও উৎপাদনে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ আদালতের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভি দাশ বলেন, নকল ঘি উৎপাদনের দায়ে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও কারিগর জিল্লাল হোসেনকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে দুই মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, কারখানাটির মূল মালিক আব্দুল মান্নান। তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লাল হোসেনের ভাই। অভিযানের সময় একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুমধু চক্রবর্তী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি মার্জারিন উৎপাদনের অনুমোদন নিলেও বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে নকল ঘি তৈরি ও বাজারজাত করছিল। অভিযানের সময় দেখা গেছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এসব পণ্য উৎপাদন করা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এসব ঘি বাবুর্চিদের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সরবরাহ করা হতো।

তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি বিসিক শিল্পনগরীতে ‘আবু তাহের ছানা কোম্পানি’ নামে জমি বরাদ্দ নিলেও বর্তমানে ‘তাহের ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত জিল্লাল হোসেন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সয়াবিন তেল, ডালডা ও ফ্লেভার ব্যবহার করে ঘি তৈরির কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।