জলাবদ্ধতার ঘটনার পর কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষক বদলি
ফাইল ছবি
কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে জলাবদ্ধতার ঘটনার পর কলেজটির সাত শিক্ষককে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বদলিকৃত শিক্ষকদের আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে। এর আগে তাদের ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) সংযুক্ত করা হয়েছিল।
বদলিকৃত শিক্ষকরা হলেন— কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম (চিওড়া সরকারি কলেজ, চৌদ্দগ্রাম), গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক (কক্সবাজার সরকারি কলেজ), উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া (হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজ), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদার (লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহ (নবীনগর সরকারি কলেজ), হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন (বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ) এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন (বরগুনা সরকারি কলেজ)।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, বদলিকৃত শিক্ষকদের মধ্যে কয়েকজন এইচএসসি পরীক্ষা পরিচালনার বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। তবে উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম সরাসরি পরীক্ষা ব্যবস্থাপনায় ছিলেন না। তার ছেলে চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। অধ্যাপক আবদুল মালেককে জ্যেষ্ঠদের অনীহার কারণে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক এবং মোহাম্মদ মহসীন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ছিলেন।
গত ১৩ জুলাই সকালে ভারী বৃষ্টিতে কলেজ প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। পরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসনের উদ্যোগে ডিঙি নৌকা ও ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়। কলেজের শিক্ষক এবং স্বেচ্ছাসেবীরাও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি, জলাবদ্ধতা হলেও কোনো পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল না এবং পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে গত ১৮ জুলাই কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকও করেন।
বদলির বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বদলি একটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। প্রয়োজন অনুযায়ী মন্ত্রণালয় যেকোনো কর্মকর্তাকে বদলি করতে পারে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন, শুধু বৃষ্টিজনিত জলাবদ্ধতার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাদের বদলি করা হয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বদলির নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি