কুমিল্লায় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লায় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যা: আসামির মৃত্যুদণ্ড

ফাইল ছবি

কুমিল্লায় নয় বছরের শিশু তানজিম সুলতানা ঝুমুরকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় মফিজুল ইসলাম মফু নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মাত্র ১৯ কার্যদিবসে বিচারকাজ সম্পন্ন করে এ রায় ঘোষণা করেন কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে ট্রাইবুনালের বিচারক মো. ইয়াছিন আরাফাত এ রায় ঘোষণা করেন।

২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার গলিয়ারা ইউনিয়নের খেয়াইশ গ্রামের সোনালী শিশু বিদ্যানিকেতনের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তানজিম সুলতানা ঝুমুর (৯) স্কুল শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয়।
 
নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে খেয়াইশ ঠাকুরবাড়ি এলাকার একটি ধানখেত থেকে ঝুমুরের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে তার স্কুলব্যাগ, স্কুলড্রেস ও জুতা উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত ঝুমুর খেয়াইশ গ্রামের প্রবাসী জাকির হোসেনের একমাত্র মেয়ে ছিল।

জানা যায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ঘটনাস্থল থেকে মফিজুল ইসলাম মফুকে দ্রুত চলে যেতে দেখেন। এ ঘটনার পরদিন শিশুটির মা রাজিয়া আক্তার বাদী সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম মফুকে একমাত্র আসামি করে সদর দক্ষিণ থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনার ৩ দিন পর র‍্যাব চাঁদপুরে অভিযান চালিয়ে আসামি মফিজুল ইসলাম মফুকে গ্রেপ্তার করে। তিনি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার খিলপাড়া গ্রামের প্রয়াত আব্দুল খালেকের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি শিশু ঝুমুরকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন।

রায় ঘোষণার পর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর বদিউল আলম সুজন বলেন, মাত্র ১৯ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন করে আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন। দ্রুততম সময়ে এ রায় সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।