ফ্রান্সে কমেছে বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন, সুরক্ষা পেয়েছেন ১৩৩৯ জন
ফাইল ছবি
ফ্রান্সে বাংলাদেশি নাগরিকদের আশ্রয় আবেদন আগের বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২৫ সালে আবেদন সংখ্যা কমে এলেও দেশটিতে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার আবেদনকারী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ এখনো গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।
ফ্রান্সের শরণার্থী ও রাষ্ট্রহীন ব্যক্তিদের সুরক্ষাবিষয়ক দপ্তরের (অফপ্রা) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
অফপ্রার ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছর ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার জন্য মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৭০টি আবেদন জমা পড়ে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার ৭১৫টি। এক বছরের ব্যবধানে আবেদন কমেছে ৮ হাজারের বেশি।
অফপ্রার হিসেবে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো আশ্রয়ের আবেদন করেছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪৩ জন। একই সময়ে আগের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেছেন ৩৩ হাজার ৭১৩ জন। প্রথমবারের আবেদন কমেছে ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। বিপরীতে পুনর্বিবেচনার আবেদন বেড়েছে ৪৩ শতাংশ।
প্রথমবারের আশ্রয় আবেদনকারীদের তালিকায় ২০২৫ সালে শীর্ষে উঠে এসেছে ইউক্রেন। দেশটির ১১ হাজার ৯৮৯ জন নাগরিক ফ্রান্সে সুরক্ষার আবেদন করেছেন। রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ইউক্রেনীয় নাগরিকদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আশ্রয় আবেদন অব্যাহত রয়েছে।
তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। দেশটি থেকে আবেদন এসেছে ১১ হাজার ৩৩৮টি।
দীর্ঘ ৭ বছর শীর্ষে থাকা আফগানিস্তান এবার তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে। দেশটির আবেদন সংখ্যা ১০ হাজার ৮২২টি।
এরপর রয়েছে গিনি থেকে ৫ হাজার ৯৩৮টি এবং আইভরি কোস্ট থেকে ৫ হাজার ২১৪টি আবেদন। তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে হাইতি, তুরস্ক ও সুদান।
বাংলাদেশিদের বিষয়ে অফপ্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংস্থাটির সিদ্ধান্তে ৩৯৩ জন বাংলাদেশি শরণার্থী মর্যাদা অথবা সহায়ক সুরক্ষা পেয়েছেন। অফপ্রার পর্যায়ে বাংলাদেশিদের সুরক্ষা পাওয়ার হার দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।
একই সময়ে ৪ হাজার ৯০৭টি বাংলাদেশি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে অফপ্রা। অফপ্রা ও ফ্রান্সের জাতীয় আশ্রয় আদালতের (সিএনডিএ) সম্মিলিত সিদ্ধান্ত বিবেচনায় বাংলাদেশিদের মোট সুরক্ষা পাওয়ার হার ৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
সিএনডিএর সিদ্ধান্তে ২০২৫ সালে আরো ৭৯৭ জন বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন। ফলে অফপ্রা ও সিএনডিএ মিলিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কসহ মোট ১ হাজার ৩৩৯ জন বাংলাদেশি ফ্রান্সে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার স্বীকৃতি পেয়েছেন।
অফপ্রার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে সংস্থাটি ১ লাখ ৫৬ হাজার ৫০০টির বেশি আবেদন নিষ্পত্তি করেছে। আগের বছরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার বেড়েছে ১০ দশমিক ৩ শতাংশ। এ সময়ে আন্তর্জাতিক সুরক্ষা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৭৮৩ জন। ফ্রান্সে সামগ্রিক সুরক্ষা স্বীকৃতির হার ছিল ৪১ দশমিক ২ শতাংশ।
আবেদন নিষ্পত্তির গতি বাড়ানোর ফলে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে বলে জানিয়েছে অফপ্রা। একই সময়ে শরণার্থী ও সুরক্ষা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য ৭৯ হাজারের বেশি জন্মসনদ, বিবাহসনদসহ বিভিন্ন নাগরিক নথি ইস্যু করা হয়েছে।
অফপ্রার গবেষণা বিভাগ বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে যে বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন তৈরি করে, সেখানেও বাংলাদেশ গুরুত্ব পেয়েছে। ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশভিত্তিক গবেষণার মধ্যে বাংলাদেশ ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলোচিত দেশ। অন্তত পাঁচটি গবেষণা অনুরোধের ভিত্তিতে তৈরি প্রতিবেদনের ৬ শতাংশ বাংলাদেশকে নিয়ে করা হয়েছে, যা ইউক্রেন ও আফগানিস্তানের সমান।