একের পর এক রুশ হামলায় কেঁপে উঠল কিয়েভ, নিহত ৩
সংগৃহীত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারো বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শনিবার ভোরের এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক ভবন। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা রয়টার্সকে জানান, হামলার সময় রাজধানীজুড়ে একের পর এক ১২টিরও বেশি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলায় শেভচেনকিভস্কি ও সোলোমিয়ানস্কি জেলায় কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেসব ভবনে বহু বাসিন্দা আটকা পড়েন। আহত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৩ ও ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোর রয়েছে। তাদের একজনের অবস্থা গুরুতর।
কিয়েভের আরও কয়েকটি এলাকায় আগুন লাগা ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দারনিৎসকি জেলায় গুদামঘরে আগুন ধরে যায় এবং হলোসিভস্কি জেলায় ভবনের ওপর ধ্বংসাবশেষ পড়ে। উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিয়েভে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির সুযোগ নিচ্ছে মস্কো।
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও সামরিক সহায়তা চেয়ে আসছেন। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্যাট্রিয়ট প্রতিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র দেশেই উৎপাদনের লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে এখনো ওয়াশিংটন ইউক্রেনকে লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেয়নি। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের প্রযুক্তি কাউকে দেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক থাকতে হয়।’ যদিও চলতি মাসের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ইউক্রেনকে এমন লাইসেন্স দিতে তিনি সম্মত হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এ ধরনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে নিতে হয়। এখন পর্যন্ত আমরা এতে সম্মত হইনি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু এ ধরনের প্রযুক্তি হস্তান্তর করা খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত। যদিও আমি মনে করি এমনটা হবে না, তবু যাদের এ প্রযুক্তি দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে তারাই একদিন আপনার বিরুদ্ধে এটি ব্যবহার করতে পারে।’ সূত্র: আল জাজিরা।