সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে ইরানি গুপ্তচর গ্রেপ্তার!

সাইপ্রাসে যুক্তরাজ্যের ঘাঁটি থেকে ইরানি গুপ্তচর গ্রেপ্তার!

ছবিঃ সংগৃহীত।

সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটিতে নজরদারি চালানোর সন্দেহে ইরানের কথিত এক গুপ্তচরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, রাশাদ সুলতানভ নামের ওই ব্যক্তি ইসলামি বিপ্লব গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করছিল। খবর দ্য ন্যাশনাল’র।

যুক্তরাজ্য ও আজারবাইজানের দ্বৈত নাগরিক সুলতানভকে গত ১৭ জুলাই সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাকে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে তিনি আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

উত্তর লন্ডনের ইসলিংটনের বাসিন্দা সুলতানভকে রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) আকরোটিরি ঘাঁটিতে গত বছরের ১১ মে থেকে ২২ জুনের মধ্যে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনার তদন্তের অংশ হিসেবে মেট্রোপলিটন পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকর্তারা হেফাজতে রেখেছেন।

আকরোটিরি হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের অভিযান পরিচালনার প্রধান ঘাঁটি। এটি ইসরায়েলকে সহায়তা দেয়া এবং ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সার্বভৌম ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচিত এই ঘাঁটিতে মার্চ মাসে ইরান-নির্মিত ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছিল। এই ঘটনা ঘটেছিল ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের শুরুর দিকে।

এদিকে বিদেশি ভূখণ্ডে সংঘটিত কথিত অপরাধের ক্ষেত্রে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ব্যবহার করে এটি প্রথম গ্রেপ্তার।

মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, সুলতানভ কথিতভাবে একটি নিষিদ্ধ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ঘাঁটিতে শত্রুতামূলক নজরদারি চালিয়েছেন এবং পরে সেই তথ্য একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা আইআরজিসির সঙ্গে শেয়ার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সুলতানভকে প্রথমে ২০২৫ সালের জুনে সাইপ্রাসের পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং দ্বীপটির রাজধানী নিকোসিয়ার একটি কারাগারে রাখা হয়। তবে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস (সিপিএস) তাকে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণের উদ্যোগ নেয়ার পর তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

লন্ডনের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ বিভাগের প্রধান কমান্ডার হেলেন ফ্লানাগান বলেন, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়ার সময় কর্মকর্তারা সিপিএস, ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি এবং সাইপ্রাসের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছেন।

গ্রেপ্তারের আগে সুলতানভ দীর্ঘ লেন্সযুক্ত ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ঘাঁটির ছবি তুলছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তিনি বিস্তারিত নোটও লিখেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, তিনি এসব ছবি থাকা ফাইল এনক্রিপ্ট করেছিলেন এবং সেগুলো এমন এক ব্যক্তির কাছে পাঠিয়েছিলেন, যাকে আইআরজিসির সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।