প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালন
সংগৃহীত ছবি
ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ফ্রান্সে বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং তাদের আদর্শ ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) প্যারিসের ১৬তম এরোনডিসমেন্টে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইউনেস্কোতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ফ্রান্স ও মোনাকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দূতালয় প্রধান মো. ওয়ালিদ বিন কাশেম।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে।
এরপর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের বাণী পাঠ করেন ডিফেন্স অ্যাটাশে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান মোল্লা (এনডিসি, পিএসসি)। প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান। এ ছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের বাণীও অনুষ্ঠানে পাঠ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত খন্দকার এম তালহা বলেন, প্রতিটি শহীদ পরিবারের প্রতি জাতির দায়বদ্ধতা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের বার্তাগুলোতেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আত্মত্যাগের মূল্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা কেবল স্মরণে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার ও জাতীয় উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সেই আদর্শকে বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দূতাবাস জানায়, ৫ আগস্ট প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্টসংক্রান্ত কনসুলার সেবা সীমিত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি একদিন আগে আয়োজন করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
উপস্থিত ছিলেন এম এ রহিম, আবুল খায়ের লস্কর, জুনেদ আহমেদ, ইফতেশাম চৌধুরী, মনোয়ার পাটোয়ারী, কাওসার আহমদ, শহিদুল ইসলাম, ফারুক আহমেদসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এ ছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সচিব শেখ মারেফাত তারিকুল ইসলাম, মিনিস্টার (কমার্শিয়াল) মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় সচিব কে এফ এম শারহাদ শাকিলসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।