টিকটক লাইভ চলাকালে গুলিতে মেক্সিকান ইনফ্লুয়েন্সার নিহত
সংগৃহীত
মেক্সিকোর জনপ্রিয় টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার সিজার গাস্তেলুম লাইভ সম্প্রচারের সময় দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সিনালোয়া অঙ্গরাজ্যের রাজধানী কুলিয়াকানে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত গাস্তেলুমের টিকটকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ অনুসারী ছিলেন।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কুলিয়াকানের একটি কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন রেস্টুরেন্টের পার্কিং এলাকায় দুই ব্যক্তির সঙ্গে হাস্যরস করছিলেন গাস্তেলুম। এ সময় মোটরসাইকেলে করে আসা দুই হামলাকারীর একজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। হামলার পরপরই মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
কুলিয়াকান শহরটি দীর্ঘদিন ধরে সিনালোয়া কার্টেলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী—লস মায়োস ও লস চাপিতোসের সংঘর্ষে অস্থির। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম এ হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, কেন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা অবশ্যই তদন্ত করে বের করতে হবে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করা হবে।
নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রসিকিউটরদের কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাস্তেলুম তার কিছু ভিডিওতে একটি অপরাধী গোষ্ঠীর নির্দিষ্ট একটি অংশের প্রতি ইঙ্গিত করেছিলেন। তিনি নিজের পরিচয়ে প্রায়ই ‘বেলিকো’ শব্দটি ব্যবহার করতেন, যা মেক্সিকোর কিছু উপসংস্কৃতিতে মাদক কার্টেল-সংশ্লিষ্ট ভাবমূর্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
এটি চলতি সময়ে টিকটক লাইভ চলাকালে আলোচিত দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে মধ্য মেক্সিকোর জালিস্কো অঙ্গরাজ্যে ২৩ বছর বয়সি বিউটি ইনফ্লুয়েন্সার ভ্যালেরিয়া মার্কেজও লাইভ সম্প্রচারের সময় গুলিতে নিহত হন।
ওই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেয়। মার্কেজ হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে কার্টেল-সংশ্লিষ্ট কমান্ডার রিকার্দো রুইজ ভেলাসকোর নামও উল্লেখ করা হয়। সর্বশেষ বুধবার (৫ আগস্ট) ট্রাম্প প্রশাসন সিজেএনজির আট নেতাকে গ্রেফতার বা দোষী সাব্যস্ত করতে সহায়ক তথ্যের জন্য সর্বোচ্চ ১০২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা