ঘুমের ভঙ্গি শরীরে ভয়ংকর রোগ সৃষ্টি করছে না তো
ফাইল ছবি
দিনভর কাজ করে বাসায় ফিরে বিছানায় ঢলে পড়া প্রায় সবারই অভ্যাস। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও দিনে অবসরে কিংবা রাতে পড়ালেখা শেষ করে সুযোগ পেলেই বিছানায় শরীর মেলে দেন।
রাতে ঘুমানো ছাড়াও কেউ কেউ দিনে কাজের ফাঁকে বিশ্রামের জন্য ঘুমিয়ে থাকেন। পর্যাপ্ত ঘুম অবশ্য শরীর ও মন ভালো রাখে। খবর হিন্দুস্থান টাইমস
ঘুম উপকারী হলেও অনেক সময় এর ভঙ্গি শরীরে ভয়ংকর রাগের কারণ হতে পারে। এ কারণে ঘুমের ধরন বিবেচনা করা জরুরি।
অস্বস্তিকর ভঙ্গিতে ঘুমালে শারীরিক অস্বস্তিও হতে পারে। হাত অবশ হওয়া, আঙুলে ঝিমঝিম অনুভূতি, ঘাড়ে ব্যথা হওয়ার মতো নানা সমস্যা হতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘুমের ভঙ্গি এবং এ সংক্রান্ত শারীরিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন অ্যাস্টার হোয়াইটফিল্ড হাসপাতালের নিউরোলজি কনসালট্যান্ট এবং স্ট্রোক প্রোগ্রামের প্রধান ডা. সুরভি চতুর্বেদী।
- ঘুমের ভঙ্গি কি স্নায়ুর ক্ষতির কারণ
এ স্নায়ু বিশেষজ্ঞ প্রথমেই স্পষ্ট করেছেন, শুধু কোনো একটি ঘুমের ভঙ্গি স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে না।
এর সঙ্গে নানা বিষয় জড়িত থাকে। তবে ভুল ভঙ্গি ঝুঁকিতে থাকা বা বিদ্যমান সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে। ঘুমের এমন ভুল ভঙ্গি নির্দিষ্ট কিছু স্নায়ুর ওপর দীর্ঘক্ষণ চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ডা. সুরভি বলেন, কিছু নির্দিষ্ট ঘুমের ভঙ্গি কখনো কখনো শুধু পিঠের ব্যথা নয়, বরং স্নায়ুর ব্যথাকেও বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার ‘সায়াটিকা’ রয়েছে, এটি এক ধরনের স্নায়ুর ব্যথা, যাকে সাধারণত ভুলবশত কোমর বা পিঠের ব্যথার মতো মনে করা হয়
- সায়াটিকা ও পিঠের ব্যথা কি একই
সায়াটিকাকে প্রায়ই সাধারণ পিঠের ব্যথার সঙ্গে মিলিয়ে ফেলা হয়। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সুরভি স্পষ্ট করেছেন, ব্যথাটি কোমরের নিম্নভাগ থেকে শুরু হলেও দুটো এক জিনিস নয়। তবে এর শুরু কীভাবে হয়, তা বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সায়াটিকা পিঠের সাধারণ কোনো ব্যথা নয়, এটি এমন এক প্রকার ব্যথা, যা কোমরের নিচের দিকে সায়াটিক স্নায়ুর প্রধান জ্বালাপোড়ার কারণে হয়। যা স্লিপড ডিস্ক, মেরুদণ্ডের স্নায়ুর জায়গা সংকীর্ণ হওয়া বা অন্য কোনো গাঠনিক সমস্যার কারণে হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ চিকিৎসক আরও বলেন, সায়াটিকা বোঝার উপায় হচ্ছে, এ ব্যথা কোমরের নিচের অংশ বা নিতম্ব থেকে শুরু হয়ে উরু ও পায়ের পেছনের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সঙ্গে অবশ ভাব, ঝিমঝিম অনুভূতি বা দুর্বলতাও থাকতে পারে। ঘুমের কিছু ভঙ্গি উপসর্গগুলোকে আরও বাড়াতে পারে।
- ঘুমের কোন ভঙ্গিগুলো সায়াটিকা ব্যথা বাড়াতে পারে
ঘুমের ভঙ্গি শারীরিক সুস্থতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর সময় মেরুদণ্ড, কোমর ও পোলভিস কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ বা সোজা থাকছে, তা ঘুমের ভঙ্গির ওপর নির্ভর করে থাকে। ভুল ভঙ্গি কোমরের নিচের অংশে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে এবং সায়াটিকার লক্ষণ আরও জটিল করতে পারে।
ডা. সুরভি ভুল ঘুমের ভঙ্গিগুলো শনাক্ত করে জানান, পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানো কোমরের নিচের ব্যথা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কেননা, এটি মেরুদণ্ডের বাঁক বা মোচড় বাড়াতে পারে। চিত হয়ে একপাশে ঘুমানোর সময় উপরের পা যদি কোনো সাপোর্ট ছাড়া সামনের দিকে ঝুলে পড়ে, তাহলে পোলভিস বা শ্রোণিচক্রের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে এবং সায়াটিকায় আক্রান্তের উপসর্গ বাড়াতে পারে।
অর্থাৎ―পেটের ওপর ভর দিয়ে ঘুমানোর ফলে মেরদণ্ডে প্রচুর চাপ পড়ে। কেননা, এটি দীর্ঘ সময় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাঁকা হয়ে থাকে। একইভাবে কাত হয়ে ঘুমানো খারাপ নয়। তবে সাপোর্টের সঙ্গে ঘুমানো ভালো।
ডা. সুরভি পরামর্শ দিয়েছেন, যারা পিঠ ও সায়াটিকার ব্যথায় ভুগছেন, তাদের জন্য হাঁটুর নিচে বা দুই হাঁটুর মাঝে একটি বালিশ দিয়ে চিত হয়ে বা কাত হয়ে ঘুমানো মেরুদণ্ডের জন্য ভালো সাপোর্ট হিসেবে কাজ করতে পারে। এছাড়া ঘুমানোর সময় মেরুদণ্ড যেন আরামদায়ক থাকে এবং ঘুমের ভঙ্গি যেন বিদ্যমান কোনো উপসর্গ না বাড়ায়, সেদিকে খেয়াল রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন এ চিকিৎসক।