ঋণ পরিশোধ না করায় নিলামের মুখে রাজপাল যাদবের পৈতৃক সম্পত্তি

ঋণ পরিশোধ না করায় নিলামের মুখে রাজপাল যাদবের পৈতৃক সম্পত্তি

ছবিঃ সংগৃহীত।

ভুল বিনিয়োগ এবং আইনি জটিলতায় পড়ে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা রাজপাল যাদব।১ কোটি ৫ লাখ রুপি সমমূল্যের সাতটি চেক বাউন্স-সংক্রান্ত মামলায় দিল্লি হাইকোর্ট কর্তৃক তিন মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহের মাথায় এবার নতুন বিপদে পড়েছেন এই অভিনেতা। ১৬.৬১ কোটি রুপির বকেয়া ঋণ আদায়ে উত্তরপ্রদেশে অবস্থিত তার পৈতৃক সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও নিলাম প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করা হলে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনলাইন নিলামের মাধ্যমে এসব সম্পত্তি বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে এনডিটিভির কাছে ব্যাংকের একটি সূত্র জানায়, রাজপাল যাদব, তার স্ত্রী এবং তার মায়ের নামে সুদে-আসলে বকেয়া ঋণের পরিমাণ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬.৬১ কোটি রুপি। এই ঋণ সমন্বয়ের লক্ষ্যে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বন্ধকী সম্পত্তিগুলোর অনলাইন নিলাম অনুষ্ঠিত হবে। নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তিদের আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত ৩১ লাখ রুপি জামানত বা আর্নেস্ট মানি হিসেবে জমা দিতে হবে।

ইতিমধ্যেই ব্যাংক কর্মকর্তারা উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুর জেলার কুন্দ্রা গ্রামে অবস্থিত রাজপাল যাদবের পৈতৃক ভিটায় একটি ক্রোক বা অ্যাটাচমেন্ট নোটিশ টানিয়ে দিয়েছেন।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, বকেয়া পাওনা ১৬.৬১ কোটি রুপি পরবর্তী ৩৪ দিনের মধ্যে পরিশোধ করা না হলে পৈতৃক বাড়িসহ শাহজাহানপুরের আরেকটি সম্পত্তি নিলামে তোলা হবে। জানা গেছে, ওই দুটি সম্পত্তির আনুমানিক সম্মিলিত বাজারমূল্য প্রায় ৩.১৯ কোটি রুপি।

অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপাল যাদবের বড় ভাই শ্রীপাল যাদব দৈনিক ভাস্করকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান যে, ব্যাংকের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে এবং আশা করা যাচ্ছে নিলামের আগেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। শ্রীপাল যাদব বলেন, এটি একটি পুরোনো বিষয়।

ঋণ পরিশোধের বিষয়ে ব্যাংকের সঙ্গে কথা চলছে। খুব দ্রুতই বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। বর্তমানে সম্পত্তি নিলাম হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

অপরদিকে, সেন্ট্রাল ব্যাংকের স্থানীয় ম্যানেজার অনুজ বর্মা পৈতৃক ভিটায় নোটিশ টানানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শাহজাহানপুরের কুন্দ্রা গ্রামে অবস্থিত তাদের পৈতৃক বাড়িতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে দুই বছর আগেও ব্যাংক একটি নোটিশ টানিয়েছিল, তবে সে সময় রাজপাল যাদব ও ব্যাংকের মধ্যে ঋণ পরিশোধ বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

এই বড় অঙ্কের বকেয়া ঋণের সূত্রপাত ঘটেছিল রাজপাল যাদবের পরিচালনায় নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘আতা পাতা লাপাতা’-কে কেন্দ্র করে। পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৫ সালে অভিনেতা তার বাবা-মায়ের নামে ‘নওরং গোদাবরী এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ২০১২ সালে মুক্তি পাওয়া ওই সিনেমাটি নির্মাণের জন্য মুম্বাইয়ের বান্দ্রে কুরলা কমপ্লেক্সে অবস্থিত সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার শাখা থেকে ৫ কোটি রুপি ঋণ গ্রহণ করেন তিনি।

তবে ছবিটি বক্স অফিসে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়লে ঋণের কিস্তি পরিশোধ থমকে যায়। বছরের পর বছর চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ ও অন্যান্য চার্জ যুক্ত হয়ে বর্তমানে সেই বকেয়া পাওনার পরিমাণ ১৬.৬১ কোটি রুপিতে গিয়ে ঠেকেছে। সিনেমাটির ফান্ড নিশ্চিত করতে রাজপাল তার স্ত্রী রাধা যাদব এবং মা গোদাবরী যাদবকে গ্যারান্টার বানিয়ে শাহজাহানপুরের একাধিক সম্পত্তি জামানত বা বন্ধক হিসেবে রেখেছিলেন।

অবশ্য ব্যাংক কর্তৃপক্ষের এটিই প্রথম বড় পদক্ষেপ নয়। এর আগে ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে পাওনা ১১ কোটি রুপিতে পৌঁছালে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া রাজপালের শাহজাহানপুরের ডাকবাংলোর কাছের একটি বাড়ি আংশিকভাবে সিলগালা করে দিয়েছিল। স্থানীয় অধিবাসীদের তথ্যমতে, সে সময় মুম্বাই থেকে আসা ব্যাংক কর্মকর্তারা এত দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছিলেন যে ঘরের ভেতরের ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ফ্যান চালুই রয়ে গিয়েছিল।

একই আর্থিক সংকটের জের ধরে চেক বাউন্স মামলায় দীর্ঘ আইনি লড়াই চালাচ্ছেন রাজপাল। চলতি বছরের ৭ জুলাই দিল্লি হাইকোর্ট সাতটি চেক বাউন্স মামলায় তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং প্রতিটি মামলায় ১.০৫ কোটি রুপি করে জরিমানার নির্দেশ দেন। আদালত উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে জমাকৃত ২ কোটি রুপি মোট দেনার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।

দীর্ঘদিনের এই আইনি জটিলতায় ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছিল, যা ২০১৯ সালে সেশন কোর্টে বহাল থাকে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়ে প্রায় ৯ কোটি রুপি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলে তা পূরণে ব্যর্থ হন অভিনেতা। ফলশ্রুতিতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি তিহার জেলে আত্মসমর্পণ করার ১২ দিন পর তিনি অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন।

রাজপাল যাদবকে সম্প্রতি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ চলচ্চিত্রে দেখা গেছে এবং সামনে প্রিয়দর্শনের ‘হাইওয়ান’ সিনেমায় অক্ষয় কুমার ও সাইফ আলি খানের সঙ্গে পর্দায় দেখা যাবে এই তাকে।