ফরিদগঞ্জে ডোবা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

ফরিদগঞ্জে ডোবা থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

প্রতীকী ছবি

সকালে প্রতিদিনের মতো দোকানের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন অটোরিকশার মেকানিক ইব্রাহিম হাওলাদার (১৮)। কিন্তু এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। স্বজনদের খোঁজাখুঁজির পর রাতে দোকানের পেছনের এক পরিত্যক্ত ডোবায় মিলে তার নিথর দেহ। 

রোববার (৯ আগস্ট) রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করে তার পরিবারের সদস্যরা।

স্বজনদের দাবি—বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিক এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে লাশ উদ্ধারের স্থান ও আশেপাশে বিদ্যুতের কোনো সংযোগ না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় রহস্য দানা বাঁধছে।

নিহত ইব্রাহিম ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব মাথায় মহছেন আউলিয়া হোটেল সংলগ্ন একটি দোকান ভাড়া নিয়ে অটোরিকশা মেরামতের কাজ করত।

তার পরিবার সূত্র জানায়, তার পৈতৃক বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালাইয়া গ্রামে। তবে গত ১০-১২ বছর ধরে তার পরিবার ফরিদগঞ্জ কলেজ গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে। নিহত ইব্রাহিমের বাবা নয়া মিয়া হাওলাদার ফরিদগঞ্জ পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সরদার হিসেবে কর্মরত।   

ইব্রাহিমের মা নয়নতারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে সকাল ১১টার দিকে ঘর থেকে বের হয়ে বাসস্ট্যান্ডের গ্যারেজে যায়। এরপর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। বিকাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে রাতে গ্যারেজের পেছনের ডোবায় টর্চলাইটের আলো ফেলি। তখন দেখি আমার ছেলে কাদা-মাটিতে নিথর হয়ে পড়ে আছে।

এদিকে ঘটনাটিকে রহস্যজনক বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উদ্ধার হওয়া স্থান দেখে বিষয়টি সাধারণ দুর্ঘটনা নয় বলে দাবি করছেন অনেকে।

সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন গাজী জানান, রাত সাড়ে আটটার দিকে ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধারের খবর শুনি। যেভাবে নিথর দেহটি উদ্ধার করা হয়েছে, তাতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. এরশাদ উল্লাহ জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।