সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ চার দাবি রাবির আদিবাসী শিক্ষার্থীদের

সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ চার দাবি রাবির আদিবাসী শিক্ষার্থীদের

সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) র‍্যালি করেছেন আদিবাসী শিক্ষার্থীরা। র‍্যালি থেকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতল মান্দিদের জন্য পৃথক ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন তারা।

রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমপ্লেক্সের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র‍্যালিটি বের করেন আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।

এবারের আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য ছিল ‘আদিবাসী জীবন ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সুরক্ষায় এগিয়ে আসুন’। র‍্যালিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করেন।

এ সময় ‘আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে’, ‘সমতল মান্দিদের জন্য পৃথক ভূমি করতে হবে’, ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে’ এবং ‘নিরাপত্তার নামে হয়রানি চলবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

র‍্যালিতে রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কালচার একাডেমির পরিচালক হরেন্দ্রনাথ সিং বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আদিবাসীদের অধিকার, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ দিন। এর মাধ্যমে বৈচিত্র্যকে তুলে ধরা ও ভিন্নতাকে উৎসাহিত করা হয়। বাংলাদেশেও এই দিবসটি যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে আদিবাসীদের পরিচয় ও সংস্কৃতি সবার কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় সমাজ গড়ে উঠবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আদিবাসী স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটির সভাপতি প্রিন্স হেমন্ত টুডু বলেন, “আমরা বিভিন্নভাবে রেসিজমের শিকার হচ্ছি। রাষ্ট্রীয়ভাবে আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি না থাকায় আমরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। ভূমি কমিশন, মাতৃভাষা ও শিক্ষাব্যবস্থাতেও এর প্রভাব রয়েছে।”

“বিভিন্ন জায়গায় আদিবাসী দিবস পালন হলেও এর বার্তা এখনো প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। তাই সরকারের কাছে আমাদের প্রধান দাবি—আদিবাসীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করা এবং সমাজের সর্বস্তরে তাদের অধিকার ও স্বীকৃতির বিষয়টি পৌঁছে দেওয়া”, যোগ করেন তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা ও ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম (কনক) বলেন, “বাংলাদেশের একটি বহু সংস্কৃতির দেশ এবং বহু জাতিসত্তার দেশ। বিভিন্ন আদিবাসী শিক্ষার্থীবৃন্দ আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করেন। তারা এই দিবসে তাদের কিছু দাবি দেওয়া কিছু অধিকার এবং যে বিষয়গুলো নিয়ে সাংবিধানিক স্বীকৃতি বা স্বাধীন ভূমি কমিশন গঠন, এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা আজকের এই দিনে সোচ্চার থাকে, কথা বলে।”

তিনি বলেন, “আমরাও চাই যে সম্প্রীতির বাংলাদেশ সকল জাতি সকল সম্প্রদায় ধর্ম বর্ণ গোত্র নির্বিশেষে এদেশে মিলেমিশে বসবাস করবে এবং সকল জাতির মর্যাদা সমুন্নত থাকবে। এই প্রতিবাদকে সামনে রেখে আমরা তাদের এই পদযাত্রা এবং তাদের আলোচনা অনুষ্ঠান সার্বিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছি এবং তাদেরকে উৎসাহিত করছি।”

বক্তারা বলেন, দেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রা সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিও জানান তারা।

কর্মসূচিতে আদিবাসী স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব রাজশাহী ইউনিভার্সিটি, গারো শিক্ষার্থী পরিবার, রাবি, পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, রাজশাহী মহানগর এবং আদিবাসী ছাত্র পরিষদ, রাবির নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।