আদালতের নির্দেশ না মানায় দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহারের আদেশ

আদালতের নির্দেশ না মানায় দাগনভূঞা থানার ওসিকে প্রত্যাহারের আদেশ

সংগৃহীত ছবি

ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমানকে প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নির্দেশের পরও মামলা রেকর্ডে অনীহার অভিযোগে এ আদেশ দেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে এ সংবাদ নিশ্চিত করেন ওই আদালতের স্টেনোগ্রাফার মোহাম্মদ শামছুদ্দীন।

তিনি জানান, রবিবার দাগনভূঞা থানার মোমারিজপুর গ্রামের রাকিব হাসানের স্ত্রী বিবি মারজাহান আদালতে অভিযোগ করেন তাকে শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদন করলেও ওসি তা গ্রহণ করেননি। এরপর আদালতে মামলা করলে বিচারক এফআইআর হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দেওয়ার পরও ওসি তা উপেক্ষা করেন। এ নিয়ে ভুক্তভোগী মারজাহান আদালতে ফের দরখাস্ত দিলে বিচারক ওসিকে দাগনভূঞা থানা থেকে প্রত্যাহার করতে জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর অনুলিপি প্রেরণ করেন।

আদালত আদেশে উল্লেখ করেন, ওসি তার কর্মকাণ্ডের কারণে দায়িত্বে থাকার অযোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছেন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিজেকে দলীয় কর্মী ও দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজমের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আইনকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাতেন নোমান। গণ-অভ্যুত্থানের পর পট পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এখন নিজেকে যুবদল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দুই নেতার কাছের আত্মীয় বলে প্রভাব বিস্তার করছেন।

২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত হিসেবে ব্রাহ্মনবাড়িয়ার বিজয় নগর থানার ওসি (তদন্ত) থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে পদায়িত করা হয় নোমানকে। সে থেকে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি।

মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর ওসি নোমানকে বিজয়নগর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।

জানা যায়, তৎকালীন সময়ে ওসি ফয়জুল আজিম নোমানের শয়ন কক্ষের বিছানার নিচ থেকে ৩৫০ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেন বলেন, ওসির প্রত্যক্ষ মদদে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে।

নিজের দায়িত্ব ভুলে গিয়ে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের ইন্ধন দিচ্ছেন তিনি। রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের সম্মানহানি যেন ওসির রুটিনে পরিণত হয়েছে।

আদালতের আদেশ নিয়ে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) প্রত্যুষ কুমার মজুমদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।