ইরানি হুমকির ভয়ে তুরস্কে বিমান বদলের তথ্য স্বীকার করলেন ট্রাম্প
ছবিঃ সংগৃহীত।
ইরানের হুমকির কারণে তুরস্ক সফর শেষে ফেরার পথে উড়োজাহাজ বদলের তথ্য স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গতকাল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
গত ৮ জুলাই তুরস্কে ন্যাটো সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় রাজধানী আঙ্কারার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রাম্পকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা যায়। সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজেও সেই দৃশ্য দেখা যায়।
তবে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার কিছু সময় পর ট্রাম্প নিরাপত্তারক্ষীদের প্রহরায় বিমানটি থেকে নেমে যান। এরপর তাকে একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে বিমানবন্দরের টারম্যাকের অন্য প্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অপেক্ষায় থাকা অপেক্ষাকৃত ছোট একটি উড়োজাহাজে ওঠেন তিনি। ওই বিমানেই পরে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন ট্রাম্প।
ক্যাটারিং ট্রাকটি সাধারণত বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হয়। আর ট্রাম্প যে ছোট উড়োজাহাজে করে ওয়াশিংটনে পৌঁছান, সেটি ছিল মার্কিন বিমানবাহিনীর সি-৩২এ।
কয়েক দিন আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে। গতকাল মঙ্গলবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের কাছে ওই প্রতিবেদনের সত্যতা স্বীকার করেন ট্রাম্প।
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, পুরো বিষয়টি ছিল সিক্রেট সার্ভিসের সিদ্ধান্ত। তার নিরাপত্তাকর্মীরা যা বলেছেন, তিনি তা অনুসরণ করেছেন। সিক্রেট সার্ভিস ও সামরিক বাহিনীর পরামর্শকে তিনি গুরুত্ব দেন বলেও জানান।
ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে অন্য একটি ফ্লাইটে ও অন্য একটি বিমানে যেতে বলেছিলেন। এতে নিরাপত্তার মাত্রায় কোনো পার্থক্য না থাকলেও নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে এভাবেই যেতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি তাদের নির্দেশ মেনে চলেছেন।
ইরান থেকে কী ধরনের হুমকি এসেছিল, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানতে কাউকে খুব বেশি প্রশ্ন করেননি।
তিনি বলেন, তিনি প্রচুর হুমকি পান এবং কতটা হুমকি পান, তা অন্যরা ধারণাও করতে পারবেন না। ট্রাম্প আরো বলেন, গুরুত্বপূর্ণ যেকোনো প্রেসিডেন্টই হুমকির মুখে থাকেন।
তার দাবি, ‘গুরুত্বহীন প্রেসিডেন্টরা কখনো হুমকির শিকার হন না।’ নিজেকে তিনি সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট বলেও মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, প্রথম ও দ্বিতীয় মেয়াদ মিলিয়ে ছয় বছরে তিনি যত কাজ করেছেন, অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট এত কাজ করতে পারেননি।
নিরাপত্তা নিয়ে তিনি খুব বেশি দুশ্চিন্তা করেন না বলেও জানান ট্রাম্প। তার ভাষায়, তার মনোভাব হলো, ‘যা হয় হোক’।