সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা নিয়ে এনবিআরের স্পষ্টীকরণ

সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা নিয়ে এনবিআরের স্পষ্টীকরণ

ছবি: সংগৃহীত

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা পেতে সৃষ্ট জটিলতা দূর করতে স্পষ্টীকরণ জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন নির্দেশনায় সোলার প্যানেল, সোলার ইনভার্টারসহ সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানিতে কোন প্রজ্ঞাপনের আওতায় কীভাবে শুল্ক-কর সুবিধা নেওয়া যাবে, তা পরিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এনবিআরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআর জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে শুল্ক-কর ছাড় দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কাস্টমস হাউস ও এলসি স্টেশনে এসব পণ্যচালান শুল্কায়নে দীর্ঘসূত্রিতা ও জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছিল। এই পরিস্থিতিতে আমদানিকারকদের সুবিধার্থে বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।

এনবিআরের স্পষ্টীকরণ অনুযায়ী, মূলধনী যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত ২৯ মে ২০২৫ সালের প্রজ্ঞাপন এবং নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ সংক্রান্ত ৮ জুন ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপন, উভয়টিতেই সোলার ফটোভোলটাইক, মডিউল ও প্যানেল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পণ্যের এইচএস কোড ৮৫৪১.৪৩.০০।

ফলে কোনো আমদানিকারক একটি বিল অব এন্ট্রিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সংশ্লিষ্ট একাধিক পণ্য ঘোষণা করলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সোলার প্যানেলের ক্ষেত্রে মূলধনী যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সিপিসি এবং অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের সিপিসি ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর পরিশোধ করে পণ্যচালান খালাস নেওয়া যাবে।

সোলার ইনভার্টারে রেয়াতি সুবিধা বহাল
সোলার ইনভার্টারের এইচএস কোড নিয়েও স্পষ্টীকরণ দিয়েছে এনবিআর। ৮ জুন ২০২৬ সালের প্রজ্ঞাপনে সোলার ইনভার্টারের ক্ষেত্রে অসাবধানতাবশত ৮৫০৪.৪০.৪০-এর পরিবর্তে ৮৫০৪.৪০.৯০ এইচএস কোড উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এনবিআর বলেছে, এক্ষেত্রে পণ্যের বর্ণনাই প্রাধান্য পাবে। ফলে সোলার ইনভার্টার আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে উল্লেখিত শুল্ক-কর রেয়াতি সুবিধা প্রযোজ্য হবে।

উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য ১ শতাংশ শুল্ক
এনবিআরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সোলার প্ল্যান্ট স্থাপন করতে চাইলে প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয় সব পণ্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে মূলধনী যন্ত্রপাতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালার আওতায় আমদানি করতে পারবে।

এক্ষেত্রে পণ্যচালান খালাসের সময় কেবল ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি দিতে হবে।

অন্যদিকে, বাণিজ্যিক আমদানিকারকদের ক্ষেত্রে ১ শতাংশ কাস্টমস ডিউটির পাশাপাশি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ আগাম কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর দিতে হবে। তবে পরবর্তীতে আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর সমন্বয় করা যাবে।

কাস্টমস আইন, ২০২৩-এর ধারা ২৬৬-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এনবিআর এই পরিপত্র জারি করেছে।