নাইজেরিয়ায় গাড়ি কিনে দিতে পারেননি, তাই ছেলের গ্র্যাজুয়েশনে ছাগল উপহার মায়ের

নাইজেরিয়ায় গাড়ি কিনে দিতে পারেননি, তাই ছেলের গ্র্যাজুয়েশনে ছাগল উপহার মায়ের

ছবিঃ সংগৃহীত।

ছেলের গ্র্যাজুয়েশন উপলক্ষে মায়ের উপহার হিসেবে অনেকেই গাড়ি, মোটরসাইকেল কিংবা দামি কোনো সামগ্রী আশা করতে পারেন।কিন্তু নাইজেরিয়ার ২৩ বছর বয়সী শিক্ষার্থী প্রমিজ ওকোরোর জন্য মায়ের উপহার ছিল একেবারেই ভিন্ন একটি ছাগল। সেই ছাগল উপহার দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাতারাতি ‘সেলিব্রিটি’ হয়ে উঠেছে প্রাণীটি।

চূড়ান্ত পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করছিলেন প্রমিজ।

নাইজেরিয়ার প্রচলিত ‘সাইনিং-আউট’ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সহপাঠীরা তার সাদা শার্টে নানা বার্তা লিখছিলেন, গান বাজছিল, চলছিল ছবি ও ভিডিও ধারণ।

এরই মধ্যে ভিড়ের মধ্যে ছাগল নিয়ে হাজির হন প্রমিজের মা চিনিয়েরে। প্রথমে প্রমিজ ভেবেছিলেন, এত চিৎকার-চেঁচামেচির কারণ হয়তো কারও বিয়ের প্রস্তাব। পরে দেখেন, বন্ধুরা তার মাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে এবং মা সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন একটি ছাগল।

বিবিসি পিজিনকে প্রমিজ বলেন, ‘আমি খুব খুশি হয়েছিলাম। আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। ’

সহপাঠীরাও বিষয়টি বেশ আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ করা হয়।

পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজারো মানুষ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।

নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইগবো সম্প্রদায়ের সংস্কৃতিতে ছাগলের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছার প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও পারিবারিক আয়োজনে ছাগল উপহার দেওয়ার প্রচলন আছে।

প্রমিজ এখনো ছাগলটির নাম ঠিক করেননি। তবে এটি খাওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই তার।

বরং ছাগলটিকে নিজের পোষা প্রাণী হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

প্রমিজ বলেন, ‘এখন এটি আমার পোষা প্রাণী। এটি আমার কাছে খুবই মূল্যবান। এটিকে মেরে ফেলার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। ’

ভবিষ্যতে একটি মাদি ছাগল কিনে দুটিকে দিয়ে প্রজনন করানোর পরিকল্পনাও রয়েছে তার। এরই মধ্যে ছাত্রাবাস এলাকায় ছাগলটি বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে। এমনকি প্রমিজের দাবি, ছাগলটির ভাজা ভাত খুব পছন্দ।

‘আমি লক্ষ্য করেছি, এটি ভাজা ভাত খুব পছন্দ করে। আমার রেখে দেওয়া ভাজা ভাত খুব আগ্রহ নিয়ে খায়,’ হাসতে হাসতে বলেন তিনি।

ছাগলটি এখন এতটাই জনপ্রিয় যে প্রমিজের সঙ্গে সুপারমার্কেটেও গিয়েছে। সেখানে অনেকে ছাগলটির সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় করেন।

প্রমিজ বলেন, ‘এখন এটি সেলিব্রিটি, আমার চেয়েও বেশি জনপ্রিয়। আমি এটিকে সন্ধ্যায় রাস্তায় হাঁটাতেও নিয়ে যাই। ’

ছেলের প্রতি ভালোবাসা ও গর্ব থেকেই এমন উপহার দিয়েছেন তার মা চিনিয়েরে। তিনি বসবাস করেন উবাহা-এজে নামের একটি ছোট কৃষিপ্রধান এলাকায়। সেখান থেকে ছেলেকে চমকে দিতে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ভ্রমণ করে ছাগলটি নিয়ে ফেডারেল পলিটেকনিক নেকেডেতে পৌঁছান তিনি।

অবশ্য ছেলের জন্য তার প্রথম পছন্দ ছিল অন্যরকম। তিনি চেয়েছিলেন একটি ঝকঝকে গাড়ি কিনে দিতে। কিন্তু সেই সামর্থ্য না থাকায় ছাগলকেই বেছে নেন।

চিনিয়েরে বলেন, ‘আমার কাছে ৪ম্যাটিক জিপ কেনার মতো টাকা ছিল না। আমি গাড়িটি খুব পছন্দ করি। তাই ভাবলাম, ছোট্ট এই উপহারটি কিনে দিই। ’

তিনি ব্যবসা করেন। খাদ্যপণ্য, পানীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন নাশতা বিক্রি করেন। তবে ব্যবসায় নানা আর্থিক চাপ থাকলেও ছেলেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চেয়েছেন তিনি।

ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় চিনিয়েরে তাকে বলেছিলেন, সহিংস গ্যাং ও অন্যান্য খারাপ প্রভাব থেকে দূরে থাকলে এবং পড়াশোনা শেষ করতে পারলে তাকে পুরস্কৃত করবেন। প্রমিজ সেই প্রতিশ্রুতি রেখেছেন।

ছেলের সাফল্যে গর্বিত মা বলেন, ‘মানুষ আমার ছেলেকে ভালোবাসে। আমি সবাইকে দেখাতে চেয়েছি যে, সেও ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য। ’

প্রমিজ বর্তমানে ফার্মাসিউটিক্যাল টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ভবিষ্যতে নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্য খাতে কাজ করে মানুষের সেবা করতে চান তিনি।

তার কাছে মায়ের এই উপহার শুধু একটি ছাগল নয়, বরং মায়ের ভালোবাসা, গর্ব ও প্রতিশ্রুতির প্রতীক। আর সেই ভালোবাসার গল্পই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

একটি বাদামি ছাগল, যার দাম ১ লাখ ২০ হাজার নাইরা (প্রায় ৮৮ ডলার) গাড়ির বিকল্প হিসেবে দেওয়া এই উপহারই শেষ পর্যন্ত প্রমিজের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় গ্র্যাজুয়েশন উপহার হয়ে উঠেছে।