জুলাইয়ে জাপানের রপ্তানিতে রেকর্ড
সংগৃহীত ছবি
চলতি বছরের জুলাইয়ে জাপানের রপ্তানি মাসিক রেকর্ডে পৌঁছেছে। যা বিশ্ববাজারে দেশটির পণ্যের শক্তিশালী চাহিদাকে তুলে ধরে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, জুলাই মাসে দেশটির মোট রপ্তানির মূল্য আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩.২ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ১১.৫ ট্রিলিয়ন ইয়েনে (৭২.৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) দাঁড়িয়েছে।
জুনে রপ্তানি ১৯.৩ শতাংশ বেড়েছিল এবং জুলাইয়ের এই প্রবৃদ্ধি বাজারের ১৯.৯ শতাংশ বৃদ্ধির মধ্যবর্তী পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। বাণিজ্য সংক্রান্ত এই তথ্য এমন সময়ে এল যখন চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত অন্য একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জাপানের অর্থনীতি টানা তৃতীয়বারের মতো সম্প্রসারিত হয়েছে। এক্ষেত্রে শক্তিশালী রপ্তানি বেসরকারি ভোগ ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগের দুর্বলতাকে পুষিয়ে নিতে সহায়তা করেছে।
জাপানের রপ্তানি খাতের এই দৃঢ়তা দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুদ্রানীতি স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে, কারণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি সেপ্টেম্বর নাগাদ সুদের হার বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তথ্যে আরও দেখা গেছে, জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেড়েছে এবং চীনে রপ্তানি বেড়েছে ২৫.৮ শতাংশ।
জুলাই মাসে আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২৭.৮ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে বাজারের পূর্বাভাস ছিল ২৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধির। এর ফলে, জুলাই মাসে জাপানের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৩৪.৫ বিলিয়ন ইয়েন, যা ৬৮০ বিলিয়ন ইয়েন ঘাটতির পূর্বাভাসের চেয়ে কম।
চলতি বছরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয় এবং অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল ও অন্যান্য পণ্যের দাম বেড়ে যায়। যেহেতু জাপান জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যাপকভাবে বিদেশি উৎসের ওপর নির্ভরশীল, তাই এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশটির আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়।
যদিও জাহাজ চলাচলের পথ আংশিক স্বাভাবিক হওয়ার পর জুনে তেলের দাম কিছুটা কমেছিল, তবুও আমদানি মূল্যের ওপর এর প্রভাব সাধারণত কিছুটা দেরিতে পড়ে। কারণ কাস্টমস-ভিত্তিক আমদানি মূল্যের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ আগে সম্পাদিত চুক্তির দর প্রতিফলিত হয়।
পণ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব সরবরাহ শৃঙ্খলেও পড়েছে, যার ফলে অনেক জাপানি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বাড়তি খরচের বোঝা বিদেশি ক্রেতাদের ওপর স্থানান্তর করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে রপ্তানি পণ্যের পরিমাণ বা ভলিউমের প্রবৃদ্ধি ধীরগতিতে থাকা সত্ত্বেও উচ্চমূল্যের কারণে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ ভালো অবস্থানে রয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।