শুল্ক আরোপের হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার চুক্তি

শুল্ক আরোপের হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার চুক্তি

ফাইল ছবি

আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ‍ও কানাডা মধ্যে একটি বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় ওয়াশিংটন কানাডায় উৎপাদিত গাড়ি, ট্রাক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাতুর ওপর আরোপিত কিছু বিতর্কিত শুল্কের হার কমিয়ে আনতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তিতে একটি ‘অত্যন্ত ন্যায্য’ বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কানাডা থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে আলোচনার অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে, তিনি সেই সময়সীমা পিছিয়ে শনিবার পর্যন্ত নির্ধারণ করেছেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, কানাডায় পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কোনো শুল্ক থাকবে না। তিনি আরও যোগ করেন, কৃষকদের জন্য কোনো শুল্কই থাকবে না।

মঙ্গলবার গভীর রাতে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সাথে ‘ফলপ্রসূ আলোচনার’ পর তিনি ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিনের জন্য স্থগিত করছেন। এই শুল্ক বুধবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক্সে দেওয়া পোস্টে জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই একটি চুক্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বুধবারের পরবর্তী সময়ে ১০টি প্রদেশের প্রধানমন্ত্রীদের (প্রিমিয়ার) এ বিষয়ে অবহিত করার কথা ছিল তার।

প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় কানাডায় উৎপাদিত গাড়ি ও ট্রাকের ওপর সর্বোচ্চ শুল্কের হার বর্তমানের ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট শিল্পখাতের নির্বাহীদের মতে, এই শুল্কহার দেশের অভ্যন্তরীণ গাড়ি উৎপাদন খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। গাড়ি শিল্পের দুজন নির্বাহী জানিয়েছেন, কানাডা এই শুল্কহার ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এই চুক্তির বিষয়ে অবগত শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইস্পাতের ওপর শুল্ক হ্রাসের এই সুবিধাটি কেবল একটি নির্দিষ্ট কোটা বা নির্ধারিত পরিমাণের আমদানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। সূত্রগুলোর একটি জানিয়েছে, বার্ষিক কোটার পরিমাণ সম্ভবত ৪০ লাখ (৪ মিলিয়ন) মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হবে এবং এর চেয়ে বেশি পরিমাণ আমদানির ক্ষেত্রে ইস্পাতের ওপর পূর্বনির্ধারিত ৫০ শতাংশ শুল্কই বহাল থাকবে।

গত বছর জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় ওয়াশিংটন ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল, যার জবাবে কানাডাও পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছিল। কার্নি প্রায়ই বলে থাকেন, ঘনিষ্ঠ মিত্র এই দুটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ চলছে।

কানাডীয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছি যা কেবল আমেরিকান শ্রমিক, কর্মসংস্থান ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিতই রাখবে না, বরং উত্তর আমেরিকার অর্থনীতিকেও সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী করবে।

সূত্র: বিবিসি, আলজাজিরা, রয়টার্স।