অন্ধ্র প্রদেশে হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষকের মারধোর, স্কুলেই মৃত্যু ৬ বছরের শিশুর
ছবিঃ সংগৃহীত।
সকালে বাবাকে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ছয় বছরের প্রণয় তেজা।তখন তার মধ্যে অসুস্থতার কোনো লক্ষণ ছিল না। কয়েক ঘণ্টা পর সেই শিশুকেই মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, হোমওয়ার্ক না করায় স্কুলে এক শিক্ষকের মারধরের পরই লুটিয়ে পড়ে প্রণয়।
ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমের ওয়ান টাউন এলাকার লিটল গার্ডেন স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবারের অভিযোগ, হোমওয়ার্ক না করায় শিক্ষক শিশুটিকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এরপর আতঙ্ক ও শকের মধ্যে সে লুটিয়ে পড়ে। কিং জর্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রণয়ের বাবা জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে তাঁর ছেলে নিজেই স্কুলে যাওয়ার কথা বলে। পরীক্ষা সামনে থাকায় প্রথমে পরিবার তাকে পাঠাতে চায়নি। পরে তার আগ্রহ দেখে স্কুলে যেতে দেওয়া হয়।
বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল বলে দাবি পরিবারের।
দুপুরের দিকে ছেলের সঙ্গে কিছু একটা ঘটেছে বলে খবর পান বাবা। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ফোন করেনি। স্থানীয় কয়েকজন রাঁধুনি ফোন করে বিষয়টি জানান।
পরে পরিবার স্কুলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চায়। পরিবারের দাবি, সেখানে শিক্ষককে শিশুটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়।
এনডিটিভির হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজেও শিক্ষককে শিশুটিকে আঘাত করতে দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর শিশুটি শিক্ষকের কোলে লুটিয়ে পড়ে।
প্রণয়ের আগে কোনো স্বাস্থ্যগত সমস্যা ছিল না বলেও দাবি করেছেন তার বাবা। তিনি জানান, আগের রাতেও ছেলে স্বাভাবিকভাবে খেলাধুলা করেছে এবং সকালে সুস্থ অবস্থায় ঘুম থেকে উঠেছিল।
পরিবারের দাবি, এটি স্কুলে শারীরিক শাস্তির বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অন্য শিশুদেরও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তারা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
ঘটনার খবর পেয়ে বিশাখাপত্তনমের রাজস্ব বিভাগের ডিভিশনাল কর্মকর্তা দিলীপ চক্রবর্তী হাসপাতালে যান। তিনি জানান, স্কুল থেকে ছয় বছরের একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় কিং জর্জ হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ঘটনাটির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও মর্মান্তিক উল্লেখ করেছে অন্ধ্র প্রদেশের স্কুলশিক্ষা বিভাগ। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রাথমিক তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন। এর ভিত্তিতে প্রকৃত ঘটনা যাচাইয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিতে রয়েছেন বিশাখাপত্তনমের আঞ্চলিক যুগ্ম পরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও রাজস্ব বিভাগের ডিভিশনাল কর্মকর্তা।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকেরা যাতে সংবেদনশীলতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে আচরণ করেন, সে জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার কথাও জানিয়েছে শিক্ষা বিভাগ। ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ মামলা করে তদন্ত শুরু করেছে। শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।