জমি নিয়ে বিরোধে কুপিয়ে হত্যা, নারীসহ গ্রেফতার ৪

জমি নিয়ে বিরোধে কুপিয়ে হত্যা, নারীসহ গ্রেফতার ৪

ফাইল ছবি

 

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আদা চন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি ও নরীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মামলার প্রধান আসামি সাদুল্লাপুর উপজেলার দশলিয়া বেহারাপাড়া (রায়পাড়া) গ্রামের নিপেন দাস ওরফে খইলশা (৬১), তার দুই ছেলে শঙ্খরাজ সেন ওরফে ঠাকুর দাস (২৮) ও সত্য সেন ওরফে সত্য দাস (২১) এবং স্ত্রী শংকরী রানী (৫১)।

শনিবার (২২ আগস্ট) র‌্যাব-১৩’র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া এলাকায় থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের দশলিয়া গ্রামে পারিবারিক বসতভিটার সীমানা নিয়ে নিহত আদা চন্দ্র দাসের সঙ্গে তার বড় ভাই নিপেন চন্দ্র দাসের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ৩ জুলাই নিপেন চন্দ্র দাস বিরোধপূর্ণ জায়গায় টয়লেট নির্মাণ শুরু করলে দুই পরিবারের মধ্যে বাকবিত-া হয়।

পরদিন ৪ জুলাই দুপুরে বাড়ির সামনে ছাগল চরানোর সময় আদা চন্দ্র দাসকে নিপেন দাস, তার দুই ছেলে শঙ্খরাজ ও সত্য দাসসহ পরিবারের কয়েকজন ঘিরে ধরেন। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আদা চন্দ্র দাসকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থকে।

তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আদা চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ওইদিনই নিহতের ছেলে বাদী হয়ে সাদুল্লাপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর পরে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‌্যাব। এরই ধরাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩ সিপিসি-৩ গাইবান্ধা ও র‌্যাব-১২-এর সিপিএসসি, বগুড়ার যৌথ অভিযানিক দল শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে বগুড়া সদর উপজেলার নাটাইপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এসময় স্থানীয় একটি বাসা থেকে মামলার প্রধান আসামি নিপেন দাস, তার দুই ছেলে শঙ্খরাজ সেন ওরফে ঠাকুর দাস ও সত্য সেন ওরফে সত্য দাস এবং স্ত্রী শংকরী রানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।