সেনবাগে পুকুরে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

সেনবাগে পুকুরে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

প্রতিকী ছবি

নোয়াখালীর সেনবাগে পুকুরের পানিতে ডুবে ফাহিমা আক্তার নামে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে একই পরিবারের ১৪ মাস বয়সী আরেক সন্তানও পানিতে পড়ে মারা যায়। পরপর দুই সন্তানকে হারিয়ে শোকের মাতম চলছে পরিবারটিতে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৭ নম্বর মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর রুহুল আমিন চেয়ারম্যান বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফাহিমা আক্তার ওই এলাকার মো. হুমায়ুন কবিরের মেয়ে। তার মায়ের নাম আকলিমা আক্তার।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুপুরে রান্না শেষ করার পর প্রায় ১০ মিনিটের মতো ফাহিমাকে দেখতে পাননি তার মা আকলিমা আক্তার। পরে ছোট ছেলে সাফওয়ানের কাছে ফাহিমার কথা জানতে চান। সাফওয়ানও ফাহিমাকে দেখতে না পাওয়ার কথা জানালে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

একপর্যায়ে পুকুরের পাশে ফাহিমার জুতা ও একটি বালতি দেখতে পান তার মা। এরপর পুকুরের পানিতে মেয়েকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান তিনি। তার চিৎকারে স্বজন ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে একই বাড়ির সাব্বির আহমেদ পানিতে নেমে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।

শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য গাড়িতে করে সেবারহাটের দিকে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে দাগনভূঞার দিকে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবার জানিয়েছে।

ফাহিমার মা আকলিমা আক্তার বলেন, রান্না শেষ করে প্রায় ১০ মিনিট মেয়েকে দেখতে পাইনি। ছোট ছেলে সাফওয়ানের কাছে ফাহিমার কথা জিজ্ঞেস করলে সেও তাকে দেখতে পায়নি বলে জানায়। তখন আশপাশে খুঁজতে থাকি। পুকুরের পাশে গিয়ে বালতি আর মেয়ের জুতা দেখতে পাই। এরপর পানিতে তাকিয়ে দেখি আমার মেয়ে ভাসছে। চিৎকার দিলে সাব্বির এসে তাকে পানি থেকে তুলে আনে। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই আমার মেয়েটা মারা যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা তারেক বলেন, চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে এসে দেখি শিশুটিকে গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে শুনতে পাই, সেবারহাট থেকে দাগনভূঞা নেওয়ার পথে শিশুটি মারা গেছে। এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া সত্যিই খুব কষ্টের।

শিশুটির দাদা আহসান উল্লাহ বলেন, একই পরিবারের দুই সন্তানকে এভাবে হারাতে হবে—এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। কয়েক বছর আগে আরেক নাতিকেও পানিতে হারিয়েছি। এবার ফাহিমাকেও হারালাম। আমরা কীভাবে এই শোক সামলাব, জানি না।

শিশুটির বাবা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সেবারহাট বাজারে আমার মুদি দোকান। দুপুর দেড়টার দিকে দোকানের স্টাফ শংকর বাবুকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখি। পরে মসজিদ থেকে দোকানে এসে বিষয়টি জানতে পারি। বাড়িতে একাধিকবার ফোন করলেও কেউ ফোন ধরছিল না। পরে দেখি আমার ছোট ভাইসহ মেয়েকে সেবারহাট থেকে দাগনভূঞার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর শুনি, আমার মেয়েটা আর নেই।

পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, ২০২২ সালে একই পরিবারের ১৪ মাস বয়সী আরেক ছেলে সন্তানও পানিতে পড়ে মারা গিয়েছিল। মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে দুই সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। ঘটনায় এলাকায়ও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

এ বিষয়ে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বলেন, শিশুটির পানিতে ডুবে মৃত্যুর খবর পেয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং ঘটনাটি পানিতে ডুবে মৃত্যু হিসেবে প্রাথমিকভাবে জানা যাওয়ায় মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হবে না। পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।