হাইমচরের ঘেরের মাছ বিক্রির ঘটনায় তদন্ত কমিটি

হাইমচরের ঘেরের মাছ বিক্রির ঘটনায় তদন্ত কমিটি

সংগৃহীত

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির বড় ভাই জাওয়াদুর রহিম ওয়াদুদ (টিপু) ও তার সহযোগীদের দখলে থাকা চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচরে ‘টিপুনগরের’ ঘের রক্ষায় হাইমচর থানার ওসিকে রিসিভার নিয়োগ দেন আদালত।

সেই ঘের থেকে থানা-পুলিশের মাছ বিক্রির ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। এক সদস্যবিশিষ্ট ওই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে এ কমিটি গঠন করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) খায়রুল কবিরকে এ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে এ ঘটনার সত্যতা কতটুকু, কোনো দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

নীলকমল ইউনিয়নের বাহেরচরে মেঘনা নদীর পশ্চিমে জেগে ওঠা চরে প্রায় ৪৮ দশমিক ৫২ একর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ২০১৯ সালে ছয়টি দলিলের মাধ্যমে এসব জমি ডা. দীপু মনির ভাই জাওয়াদুর রহিম ও তার সহযোগীদের নামে নেওয়া হয়। সেখানে মাছের ঘের, গবাদিপশুর খামার, ফল ও সবজির বাগান গড়ে তোলা হয়। জাওয়াদুরের ডাকনাম অনুসারে টিপুনগর নামে পরিচিতি পায় এলাকাটি।  এখন এটি আদালতের নিয়ন্ত্রণে। জমি নিয়ে মামলা চলার একপর্যায়ে আদালত এখানকার সম্পত্তি দেখভালের জন্য হাইমচর থানার তৎকালীন ওসি রিসিভার হিসেবে দায়িত্ব দেন।

এবার মাছের সেই ঘের থেকে নিয়ম না মেনে মাছ ধরে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে রিসিভারের দায়িত্বে থাকা ওসি মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে। ১৫ আগস্ট ওসির নির্দেশে থানার এসআই মো. জাকির হোসেন ঘেরে জাল ফেলে কয়েক লাখ টাকার মাছ ধরে পাশের হায়দারগঞ্জে নিয়ে বিক্রি করেন। এ জন্য উন্মুক্ত নিলাম বা দরপত্রের কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি। মাছ বিক্রির অর্থও সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কোষাগারে জমা দেননি। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পেলে পুলিশ সুপার এ তদন্ত কমটি গঠন করেন।