নেপালে মানবিক সহায়তার পরিমাণ একলাফে ৬ গুণ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র
সংগৃহীত ছবি
হঠাৎ ধেয়ে আসা প্রলয়ংকারী বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে ত্রাণসহায়তার পরিমাণ বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভয়াবহ দুর্যোগে বিপর্যস্ত দেশটির জন্য পূর্বঘোষিত ৫ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা বাড়িয়ে একলাফে ৩৬ লাখ (৩.৬ মিলিয়ন) ডলারে উন্নীত করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর।
শনিবার ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই জীবনরক্ষাকারী সহায়তা বৃদ্ধির তথ্য নিশ্চিত করা হয়, যা বন্যাদুর্গত অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি খাদ্য ও ত্রাণসামগ্রী হিসেবে পৌঁছাবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১০ হাজারেরও বেশি পরিবারের কাছে অন্তত তিন মাসের জরুরি খাদ্যসহায়তা পৌঁছানো হবে।
মার্কিন প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই চরম সংকটময় মুহূর্তে তারা নেপালের জনগণের পাশে দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করাকে প্রধান অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বিপর্যয়ের পরপরই মার্কিন সরকার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষদের উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করে। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর প্রাথমিকভাবে দ্রুত সহায়তার অংশ হিসেবে ৫ লাখ ডলারের জরুরি তহবিল চালুর কথা জানিয়েছিল। পরিস্থিতির মারাত্মক রূপ দেখে এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বাড়ায় মাত্র দুই দিনের মাথায় এই বরাদ্দের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়ানো হয়।
দুর্যোগ মোকাবিলার অংশ হিসেবে মার্কিন প্রশাসন তাদের কূটনৈতিক তৎপরতাও বৃদ্ধি করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, নেপালে থাকা তাদের নাগরিক ও পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ত্রাণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে কাঠমান্ডু ও বেইজিংয়ে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলো যৌথভাবে কাজ করছে। দুই দেশের দূতাবাসগুলো নেপাল সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দুর্যোগ মোকাবিলা এবং মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষায় অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করছে।
সূত্র: সিএনএন