আটকের পর প্রথমবার মাদুরোর ছবি প্রকাশ
নিকোলাস মাদুরো
ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো দুটি ছবি প্রকাশ করেছেন। এই ছবিতে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আটক কেন্দ্রে দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারিতে অপহরণের পর থেকে তিনি সেখানেই বন্দি আছেন।
মার্কিন বিশেষ বাহিনী মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে অপহরণ করেছিল। এরপর তাদের বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের একটি কেন্দ্রে বন্দি আছেন। মাদক পাচার এবং অস্ত্র রাখার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তবে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মাদুরো স্প্যানিশ ভাষায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স আর টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘আমার সব নাতি-নাতনি, ছেলে-মেয়ে আর যারা আমাদের ভালোবাসেন সেই সব ভালো মানুষদের জন্য এই ছবিগুলো ছোট্ট উপহার হিসেবে পাঠাচ্ছি।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমি চাই আপনারা জানুন, আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি, আপনাদের ভালোবাসায় আমাদের হৃদয় পূর্ণ।’
তিনি লেখেন, ‘আমরা শক্ত, শান্ত আর আত্মবিশ্বাসী থাকব। ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছেন। ঈশ্বরই ব্যবস্থা করবেন। ভেনেজুয়েলা আবার উঠে দাঁড়াবে।’
মাদুরোর আটকাবস্থার প্রথম এই দুই ছবিতে তাকে ধূসর রঙের ট্র্যাকস্যুট পরে হাত দিয়ে শান্তির চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। ধরা পড়ার পর থেকে তার ওজন অনেকটাই কমে গেছে বলে মনে হচ্ছে।
ছবি দুটি রোববার প্রকাশ করা হয়। তবে ছবিতে থাকা সময়ের তথ্য অনুযায়ী, ছবি দুটি তোলা হয়েছিল ২৫ জুন। এর ঠিক একদিন আগে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে জোড়া ভূমিকম্পে ৬ হাজার ৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছিল।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, তারা ছবিগুলো আসল কিনা এবং প্রকাশের অনুমতি ছিল কিনা তা জানতে আটক কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এই বার্তা প্রকাশ পেল এমন এক সময়ে, যখন মাদুরোর উত্তরসূরি ও অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ একটি ‘ঐতিহাসিক’ তেল চুক্তি ঘোষণা করার মাত্র দুই দিন পর। এই চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পাবে যুক্তরাষ্ট্র।
কারাগারে মাদুরোর কাছে সংবাদপত্র বা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নেই। তবে তাকে পরিবার আর আইনজীবীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাবেক এই নেতার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি মাসে প্রায় ৩০০ মিনিট কথা বলতে পারেন, তবে প্রতিটি কলে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট পর্যন্ত কথা বলার সুযোগ পান।