মেঝেতে স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশ, ভেতর থেকে বন্ধ ঘরে ঝুলছিল স্বামীর মরদেহ

মেঝেতে স্ত্রীর রক্তাক্ত লাশ, ভেতর থেকে বন্ধ ঘরে ঝুলছিল স্বামীর মরদেহ

সংগৃহীত ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে মনোয়ারা বেগম (৬০) নামের এক নারীকে ধারালো হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসময় একই ঘর থেকে তার স্বামী মফিজুল হকের (৭০) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ধারণা, স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রশিকনগর বাবুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে বিষয়টি সন্ধ্যায় জানাজানি হয়।

মফিজুল হক ওই গ্রামের মৃত ভুরু মন্ডলের ছেলে।

সূত্রগুলো জানায়, ঘটনার সময় বাড়িতে ওই দম্পতি ছাড়া কেউ ছিল না। বাড়িতে বসবাসকারী দম্পতির প্রবাসী ছেলের বউ শাপলা বেগম বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাড়িতে ফিরে ঘর ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। এসময় তিনি ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরের মেঝেতে শাশুড়িকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।

শাপলা বেগম প্রতিবেশীদের ডেকে জড়ো করে ঘরের পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শ্বশুরকেও সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিউর রহমান বলেন, পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা হাসুয়াটি ওই ঘর থেকে উদ্ধার করেছে। মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান ওসি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে ফাঁকা বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।