গলতে থাকা হিমবাহে পাকিস্তানের পাহাড়ি গ্রামগুলো ঝুঁকিতে

গলতে থাকা হিমবাহে পাকিস্তানের পাহাড়ি গ্রামগুলো ঝুঁকিতে

গলতে থাকা হিমবাহে পাকিস্তানের পাহাড়ি গ্রামগুলো ঝুঁকিতে

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে হিমবাহগুলো গলছে। আর এর রেশ ধরে পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলের নাজুক গ্রামগুলোর ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়ছে।

নিজ এলাকার এমন ভয়াবহ অবস্থা নিয়ে কাজ করছেন ৫১ বছর বয়সী তারিক জামিল। তিনি শিসপার হিমবাহের কাছে স্থাপিত সেন্সর এবং অন্যান্য ক্যামেরা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন তৈরী করছেন পরিস্থিতি বোঝার জন্য। তিনি একইসাথে কারাকোরাম পার্বত্য এলাকার হাসনাবাদের ২০০ পরিবারকে তাদের গ্রাম, জীবনযাত্রা, প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে অবগত করছেন। হিমবাহের বরফ গলে গেলে তাদের কী পরিণতি হতে পারে, সে সম্পর্কে তাদের জানানোর কাজটিও করে যাচ্ছেন তিনি। কেবল তারিক জামিলের নিজের গ্রাম নয়, উত্তর পাকিস্তানের হিন্দুকুশ, কারাকোরাম এবং হিমালয়ের পার্বত্য এলাকার সবখানেই বিপদ সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে।

হিমবাহের লেকগুলো যখন রবফগলা পানিতে পুরোপুরি পূর্ণ হয়ে যায়, তখন প্রাণঘাতী বন্যার শঙ্কা সৃষ্টি করে। সেতু, ভবন, ফসল- সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যায়।ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্টের হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে চলতি শতকের শেষ নাগাদ হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলোর ৭৫ ভাগই তাদের বরফ হারিয়ে ফেলবে।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতি সামাল দিতে সব এলাকায় সেন্সর বসানোর কাজ চলছে। জামিল মনে করেন, এই বিপর্যয় ঠেকাতে স্থানীয় জ্ঞান খুবই জরুরি।জাতিসঙ্ঘ-সমর্থিত গ্লাসিয়াল লেক আউটবাস্ট ফ্লাড-২ প্রকল্পের অংশবিশেষ হলো হাসনাবাদ। এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো গলতে থাকা হিমবাহের সাথে ভাটি অঞ্চলের লোকজনকে খাপ খাইয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা।ওইসব গ্রামের বাসিন্দারাও বলচেন, তাদের এই সমস্যা মোকাবেলায় জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।

এ ধরনের বন্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য প্যারিস এগ্রিমেন্টের আওতায় তহবিল পাওয়া একমাত্র দেশ হচ্ছে পাকিস্তান।

অন্যদিকে ভুটান জিএলওএফ ২ প্রকল্পের আওতায় তহবিল পাচ্ছে।
আবহাওয়া কেন্দ্রগুলো ২০১৭ সাল থেকে বৃষ্টিপাত, পানি প্রবাহ, নদী ও লেকে পানির পরিমাণ ইত্যাদি পরিমাপের জন্য সেন্সর বসাচ্ছে। এমনই একটি কেন্দ্র হচ্ছে হাসনাবাদ।

উল্লেখ্য, হিমবাহের লেকের পানিতে সৃষ্টি বন্যায় যেসব দেশ ঝুঁকির মধ্যে আছে, তার অন্যতম হলো পাকিস্তান। দেশটির প্রায় আট লাক লোক একটি হিমবাহের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাস করে। আর বিশ্বজুড়ে এ ধরনের ঝুঁকিতে আছে দেড় কোটির বেশি লোক।

আবার বিপর্যয়ের আশঙ্কার মধ্যে নিজেদের গ্রাম থেকে সরে যাওয়াও অধিবাসীদের কাছে দুঃস্বপ্নের বিষয়। এসব পরিবার প্রায় ৪০০ বছর ধরে পুরুষাক্রমিকভাবে এখানে বসবাস করছে। এখানকার উর্বর জমিতে তারা ফসল ফলায়, তাদের গবাদি পশুগুলো মাঠে চড়ে বেড়ায়। তারা অন্য কোনো ঠিকানা চেনে না। তাছাড়া অনেকের কাছে এখন থেকে অন্য স্থানে যাওয়ার অর্থও নেই।

সূত্র : রয়টার্স