মুন্সীগঞ্জে ভ্যানচালক বাশার হত্যায় গ্রেফতার ৩
প্রতিকি ছবি
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে অটোভ্যানচালক মো. বাশার গাজী (৩৮) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করার দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া অটোভ্যান ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার তিন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
গ্রেফতাররা ব্যক্তিরা হলেন— শামীম শেখ (৩৯), মো. রাজন (৩৬) ও মো. কাউসার মোল্লা (২৪)।
নিহত বাশার গাজী নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা আলীরটেক এলাকার মৃত আমির গাজীর ছেলে। তিনি কয়েক মাস ধরে টঙ্গীবাড়ীর মামুদাদপুর এলাকায় নিজ বসতঘরে একা বসবাস করছিলেন।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের কারণে বাশার গাজীর স্ত্রী জান্নাতুন নেছা ও সন্তানরা বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বাশার বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্মে মালামাল পরিবহনের কাজ করতেন।
গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার পর থেকে বাশারকে এলাকায় আর দেখা যায়নি। ২২ সেপ্টেম্বর তার বসতঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে টঙ্গীবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের তালা ভেঙে বাশার গাজীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর পিবিআই তত্ত্বাবধানে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি ২৩ সেপ্টেম্বর দায়ের হওয়ার পর ২৪ সেপ্টেম্বর পিবিআই স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মো. আবেদ আলী গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করেন। পরে অভিযান চালিয়ে শামীম, রাজন ও কাউসারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে জানা যায়, অটোভ্যানটি চুরির উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কাউসার ৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে রাজন ও শামীমকে সঙ্গে নেয়। পরে শামীমের আরও দুই সহযোগী জুয়েল ও দেলুকে নিয়ে মোট পাঁচজন ২০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে বাশার গাজীর বাড়িতে প্রবেশ করে।
অটোভ্যানটি নিয়ে যাওয়ার সময় বাশার গাজী বিষয়টি টের পেয়ে বাইরে বের হন। তিনি শামীম ও কাউসারকে চিনতে পারেন এবং চুরির ঘটনা প্রকাশ করে দেওয়ার কথা বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পাঁচজন মিলে তাকে মারধর করে। বাশার চিৎকার করার চেষ্টা করলে কাউসার তার মুখ চেপে ধরে তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যায়।
পরে রাজন ও দেলু বাশারের দুই হাত এবং শামীম ও জুয়েল দুই পা চেপে ধরে রাখে। এ সময় কাউসার তার গলা চেপে ধরলে শ্বাসরোধে বাশারের মৃত্যু হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছে।
হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয় বলেও পিবিআই জানিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে শামীম অটোভ্যান থেকে একটি রশি নিয়ে আসে। পরে কাউসার ওই রশি বাশারের গলায় পেঁচিয়ে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর বাশারের কোমর থেকে চাবি নিয়ে অটোভ্যানের তালা খুলে সেটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।
পিবিআই মুন্সীগঞ্জ জেলা ইউনিট জানিয়েছে, এ ঘটনায় পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিন আসামিকে ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।