আইভিএফের সময় যে ৪ বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের

আইভিএফের সময় যে ৪ বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের

ফাইল ছবি

সন্তান নিতে সমস্যার ক্ষেত্রে অনেক দম্পতি ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ পদ্ধতির সহায়তা নেন। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা প্রক্রিয়া। এতে ডিম্বাশয়ে উদ্দীপনা তৈরি করা, নিয়মিত স্ক্যান, ওষুধ সেবন, ডিম্বাণু সংগ্রহ, নিষিক্তকরণ এবং ভ্রূণ স্থানান্তরের মতো কয়েকটি ধাপ থাকে। তবে শুধু চিকিৎসার ধাপগুলোই নয়, আইভিএফ চলাকালে রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময় চারটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা যেতে পারে। এগুলো হলো পর্যাপ্ত ঘুম, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, মানসিক চাপ সামলানো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ। তবে এসব বিষয় বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নয় এবং এগুলো আইভিএফের সফলতা নিশ্চিত করে না। চিকিৎসার সময় শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো থাকতে এগুলো সহায়ক হতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম

আইভিএফের কারণে স্বাভাবিক দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন আসতে পারে। ভোরে হাসপাতালে যাওয়া, পরীক্ষার ফল নিয়ে দুশ্চিন্তা এবং ওষুধের সময়সূচির কারণে ঘুমের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিয়মিত সময়ে ঘুমানো ও জাগার চেষ্টা করা উচিত। পরে ঘুমিয়ে ঘাটতি পূরণ করার ওপর নির্ভর না করে প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা ভালো।

পর্যাপ্ত ঘুম আইভিএফের ফল ভালো হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না। তবে শরীর ও মনকে চিকিৎসার শারীরিক এবং মানসিক চাপ সামলাতে এটি সহায়তা করতে পারে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ

যেসব নারীর পিএমওএস, ইনসুলিন প্রতিরোধ বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। এসব সমস্যা শরীরের বিপাকীয় ও হরমোনের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

নিয়মিত ও ভারসাম্যপূর্ণ খাবার খাওয়া এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। খাবারে প্রোটিন, শাকসবজি, আঁশযুক্ত কার্বোহাইড্রেট এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখা যেতে পারে। চিকিৎসকের অনুমতি থাকলে হাঁটার মতো হালকা শারীরিক কর্মকাণ্ডও উপকারী হতে পারে।

মানসিক চাপ সামলান

আইভিএফের সময় অনেকেই সবসময় ইতিবাচক থাকার চাপ অনুভব করেন। তবে দুশ্চিন্তা বা মন খারাপ হওয়া চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার কারণ নয়। সন্তান নেওয়ার চিকিৎসা নিজেই অনেকের জন্য মানসিকভাবে কঠিন হতে পারে।

এ সময় কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা, শিথিলতা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা, কাছের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা কিংবা কিছু সময়ের জন্য সন্তান নেওয়ার চিকিৎসা-সংক্রান্ত আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট থেকে দূরে থাকা যেতে পারে।

সাপ্লিমেন্টে সতর্কতা

সবাইকে একই ধরনের ভিটামিন বা সাপ্লিমেন্ট প্রয়োজন হয় না। কারও পুষ্টির অবস্থা, চিকিৎসার ইতিহাস, শরীরে কোনো উপাদানের ঘাটতি এবং চিকিৎসার পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক সাপ্লিমেন্টের পরামর্শ দিতে পারেন।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেখে ডিম্বাণুর গুণমান, সন্তান ধারণের সক্ষমতা বা হরমোনের ভারসাম্য বাড়ানোর দাবি করা কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়। আইভিএফ শুরুর আগে রোগী কী কী ভিটামিন, সাপ্লিমেন্ট বা ভেষজ পণ্য গ্রহণ করছেন, তা অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে।

এ ছাড়া চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়ম মেনে খেতে হবে এবং আইভিএফের সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। খাবার, ব্যায়াম বা সাপ্লিমেন্টে বড় কোনো পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।