ব্রহ্মপুত্রে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ২ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি: সংগৃহীত
গাইবান্ধার ফুলছড়িতে ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে বাল্কহেড ও নৌকার দুই প্রতিনিধিকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে অংশ না নেওয়ার মুচলেকাও নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান। এর আগে সকালে উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসী ঘাটে বালু উত্তোলনের সময় তাদের আটক করেন নদীভাঙনের শিকার স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন- গুণভরী এলাকার বাল্কহেডের প্রতিনিধি মারুফ মিয়া ও বালাসীঘাটের নৌকার প্রতিনিধি মোশারফ হোসেন। তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পরে তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা আদায় করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে বালাসী ঘাট থেকে কিছুটা পূর্বদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের মাঝখানে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে দুটি বাল্কহেডে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিলো। পরে বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে তাদের ধাওয়া দিলে একটি পালিয়ে গেলেও অপর একটি বাল্কহেড ও একটি নৌকা আটক হয়।
এ সময় বিক্ষুব্ধ স্থানীয়রা কুড়াল, কোদাল, খুন্তিসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় সরঞ্জাম দিয়ে বাল্কহেড ও বালু উত্তোলনের মেশিনে ভাঙচুর করেন। পরে আটক বাল্কহেড ও নৌকাটি বালাসীঘাটে নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন তারা।
স্থানীয়দের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। পরে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাটি ও বালু আইনে বাল্কহেড ও নৌকার ২ প্রতিনিধিকে ১ লাখ টাকা করে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এলাকাবাসী জানান, এ বছর বর্ষার শুরু থেকেই ওই এলাকায় নদীভাঙন চলছে। ভাঙনে বসতভিটা, আবাদি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। জুনের শেষ ও জুলাইয়ের শুরুতে কয়েক দিনের ভাঙনে বসতভিটাসহ ২৫ থেকে ৩০ বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও গত দুই দিন ধরে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে।
তাদের দাবি, রসূলপুরে ভাঙনের অন্যতম কারণ এলাকার কাছাকাছি স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন। স্থানীয় কয়েকজন বালু ব্যবসায়ীর সহায়তায় শহরের ব্রিজ রোড, সৈয়দপুর ঘাট ও বাগুরিয়ার ব্যবসায়ীরা বালাসী এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে দক্ষিণ রসূলপুরে ভাঙন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙন রোধ ও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দফায় দফায় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সর্বশেষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। সেখানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে শনিবার বালু উত্তোলনের সময় বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা বাল্কহেড আটক করে ভাঙচুর করেন।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে বাল্কহেডের প্রতিনিধি ও নৌকার প্রতিনিধিকে মাটি-বালু আইনে ২ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। একই কাজ যেন আর না করে, সেজন্য তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।