আমাদের একটাই উদ্দেশ্য শব্দদূষণমুক্ত গাজীপুর গড়ে তোলা: জেলা প্রশাসক

আমাদের একটাই উদ্দেশ্য শব্দদূষণমুক্ত গাজীপুর গড়ে তোলা: জেলা প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, গাজীপুরকে শব্দদূষণমুক্ত করার একটি বড় উপায় হলো গাড়ির হর্ন, বিশেষ করে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধ করা। এই হর্নের ব্যবহার বন্ধ বা সীমিত করতে পারলে আমরা এর সুফল পাবো। সে লক্ষ্যে আমরা পর্যায়ক্রমে মোটর সাইকেল, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন গণপরিবহনের চালক এবং শব্দদূষণের সাথে জড়িত সকল অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সাথে বৈঠক করছি। এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য এবং এটি বাস্তবায়নের উপায়গুলো আমরা তাদের সামনে তুলে ধরছি।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, সেজন্য আজকে গণপরিবহনের যারা মালিক, শ্রমিক এবং ড্রাইভার-এই তিন শ্রেণির মানুষকে নিয়ে আজকে বসেছিলাম। সেখানে তারা কথা দিয়েছেন আগামী ১৫ দিনের ভেতরে সাড়ে পাঁচশ’রও বেশি বাস, যেগুলো গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহার করা হয়, সেসব বাস হাইড্রোলিক হর্নমুক্ত করে তারা মিউজিক হর্ন ব্যবহার করবেন। যেটি শ্রুতিমধুর ও সহনীয় মাত্রার এবং যা মানুষের কানের স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি করে না, সেরকম হর্ন তারা প্রতিস্থাপন করবেন-এই প্রতিশ্রুতি তারা নিজেরাই দিয়েছেন। আজ থেকে প্রয়োজন ছাড়া তারা কোনো হর্ন বাজাবেন না।’’

গাজীপুর জেলাকে শব্দদূষণ মুক্ত করার লক্ষ্যে পরিবহন মালিক ও গণপরিবহন চালকগণের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, আমাদের গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ট্রাফিক) জানিয়েছেন, গত দুই মাসে আমাদের কর্মসূচি চলাকালে প্রায় নয়শ’ হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়েছে। এটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। জেলা পুলিশ সুপারও এ নিয়ে কাজ করছেন এবং চমৎকারভাবে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন। আমরা একসাথে অনেক কর্মসূচি করেছি, ভবিষ্যতেও একসাথে অনেক কর্মসূচি করব। আমাদের একটাই উদ্দেশ্য-মানুষকে স্বস্তি দেওয়া এবং একটি শান্ত ও শব্দদূষণমুক্ত গাজীপুর গড়ে তোলা।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়া। মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এস এম আশরাফুল আলম, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শাহরিয়ার নজির প্রমুখ।