থাইরয়েডের ওষুধ কি আজীবন খেতে হয়?
ছবিঃ সংগৃহিত।
বর্তমানে অনেকের মুখেই শোনা যায়, ‘আমার থাইরয়েডের সমস্যা হয়েছে।’ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ হরমোন নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে এই থাইরয়েড গ্রন্থি হরমোন। এ হরমোন কম বা বেশি তৈরি হলে দেখা দিতে পারে শারীরিক নানা জটিলতা। ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন, হৃদস্পন্দনে অস্বাভাবিকতা থেকে শুরু করে ঘুম ও মেজাজের পরিবর্তনও হতে পারে এর লক্ষণ। তবে কারা বেশি ঝুঁকিতে এবং কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?
থাইরয়েড হলো গলার সামনে অবস্থিত একটি ছোট গ্রন্থি, যা শরীরের মেটাবলিজম, হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা, শক্তি ও বিভিন্ন অঙ্গের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হলে তাকে হাইপোথাইরয়েডিজম এবং বেশি তৈরি হলে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়। হাইপোথাইরয়েডিজমের অন্যতম সাধারণ কারণ হলো হাশিমোটোস থাইরয়ডাইটিস, যা একটি অটোইমিউন রোগ-অর্থাৎ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে নিজের থাইরয়েড গ্রন্থিকে আক্রমণ করে।
নারীদের মধ্যে থাইরয়েডের রোগ, বিশেষ করে অটোইমিউন থাইরয়েড রোগ, পুরুষদের তুলনায় বেশি দেখা যায়। আমেরিকান থাইরয়েড অ্যাসোসিয়েশন-এর তথ্য অনুযায়ী, নারীদের থাইরয়েডের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। বিশেষ করে হাশিমোটোস থাইরয়ডাইটিস নারীদের মধ্যে অনেক বেশি দেখা যায়।
একটি সাম্প্রতিক এটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, নারীদের এই রোগের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে পুরুষদের থাইরয়েড রোগ হয় না-পুরুষদেরও থাইরয়েড রোগ হতে পারে এবং প্রয়োজন হলে পরীক্ষা করা উচিত।
সাম্প্রতিক একটি বড় যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যাভিত্তিক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৮–৯৪ এবং ২০০৭–১২ সময়কালে অটোইমিউন থাইরয়েড রোগের প্রকোপ প্রায় একই ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে রোগ শনাক্ত করার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
থাইরয়েডের ওষুধ কি আজীবন খেতে হয়?
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে হাশিমোটোসের কারণে স্থায়ী হাইপোথাইরয়েডিজম হলে দীর্ঘমেয়াদি, এমনকি সারাজীবন লেভোথাইরক্সিন প্রয়োজন হতে পারে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে হাইপোথাইরয়েডিজম সাময়িকও হতে পারে, যেমন কিছু ধরনের থাইরয়ডাইটিস বা গর্ভাবস্থার পরবর্তী থাইরয়েডের সমস্যা। এসব ক্ষেত্রে পরবর্তীতে থাইরয়েডের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক হয়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ কমানো বা বন্ধ করা সম্ভব হতে পারে। তাই টিএসএইচ স্বাভাবিক হলেই নিজের ইচ্ছায় থাইরয়েডের ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
থাইরয়েড মানেই শুধু ‘মোটা হওয়া বা ওজন কমে যাওয়া’ নয়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজনের পরিবর্তন, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, ঠান্ডা বা গরম সহ্য না হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত ঘাম, মাসিকের অনিয়ম, চুল পড়া-এসব বিভিন্ন থাইরয়েড রোগে দেখা যেতে পারে। তবে এসব উপসর্গ অন্য অনেক রোগেও হতে পারে।
লেখিকা, ডা. ইসমত জেরিন সুরভী, এমবিবিএস (ডিইউ)