মুন্সীগঞ্জে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবসে র্যালি ও আলোচনা সভা
ছবি: সংগৃহীত
মুন্সীগঞ্জে জাতীয় উৎপাদনশীলতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও দক্ষতার সমন্বয়’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সভায় দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ও অপচয় কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জেলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালি শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা নুরমহল আশরাফী। এতে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মাহমুদুর রহমান খোন্দকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেন, পিপিএম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, বিসিক জেলা কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিল্পোদ্যোক্তা, শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকনেতা, এনজিও প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ, আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।
তারা বলেন, কৃষি, শিল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, পর্যটন ও সেবা খাতকে আরও উৎপাদনশীল করতে অপচয় কমানো, সময়ের সঠিক ব্যবহার, দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ এবং নতুন ধারণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে একটি উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই মুন্সীগঞ্জ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার পরিচালিত বিভিন্ন কারিগরি ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য আরও সহজলভ্য করতে হবে। পাশাপাশি আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিয়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
তিনি বিসিকের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমবাজারের চাহিদা বিবেচনায় সময়োপযোগী, সময়সীমাবদ্ধ ও বাজারভিত্তিক কারিকুলাম প্রণয়ন করতে হবে। এতে প্রশিক্ষণার্থীরা শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারবেন।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। বিশেষ করে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্প উৎপাদনে জ্বালানি সাশ্রয়, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পখাত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।