সাইকেল চুরির সন্দেহ-মারধর ঘিরে ঢাকা কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা

সাইকেল চুরির সন্দেহ-মারধর ঘিরে ঢাকা কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা

সংগৃহীত ছবি

তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রাজধানীর জিগাতলায় স্থানীয় ও ঢাকা কলেজের ছাত্রদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে রাত ৮টার দিকে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘ঢাকা রেসিডেন্সি’ হোস্টেল ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন জানান, মূলত চার থেকে পাঁচজনের একটি গ্রুপ ছিল। চারজন বা সাতজনের এই গ্রুপের একজনের একটি সাইকেল চুরি হয়ে যায়। সেই সাইকেল চুরিকে কেন্দ্র করে তারা যাদের সন্দেহ করছিল, তাদের ধরে উগ্র আচরণ করা শুরু করে।

বিষয়টি জেনে পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

আটকরা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বলে জানা গেছে। পরে কলেজ প্রশাসনের মধ্যস্থতায় তাদেরকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কায় জিগাতলায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভাঙচুর থেকে রক্ষা করতে জিগাতলার গাবতলী মসজিদ সংলগ্ন ঢাকা রেসিডেন্সি হোস্টেল পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বর্তমান ঢাকা কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মারধর ও উত্তেজনার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের এক যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী রেসিডেন্সি হোস্টেলের পাশাপাশি কয়েকটি রুমে থাকতেন। তাদের মধ্যে একজনের একটি সাইকেল চুরি হয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, আমাদের ছোট ভাইয়েরা তাদের কাছে কিছু টাকা পেত।

যেহেতু আজকে ১ তারিখ, তাই তারা হোস্টেল ছেড়ে চলে যাচ্ছিল। ছোট ভাইয়েরা পাওনা টাকা চাইলে তারা তা না দিয়ে নানা রকম টালবাহানা শুরু করে এবং বিকাশে বা পরে পরিশোধ করবে বলে জানায়। এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়েরা বিষয়টি নিয়ে ভিডিও করা শুরু করলে বিতর্ক তৈরি হয় এবং ওদের মারধর করা হয়।

ছাত্রদলের এ নেতা বলেন, ঘটনাটি নিয়ে পরবর্তীতে হলে খবর দেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রায় ৫০-৬০ জন এসে হোস্টেলে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ ঘটনার দ্বিতীয় দফায় সংঘাতের মধ্যে আমাদের চার-পাঁচজন আহত হয়, যার মধ্যে ২৪ ব্যাচের রিজভী ও আসিফ রয়েছে।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. শওকত আলী বলেন, এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের একটা হস্তক্ষেপ ছিল। শিক্ষার্থীরা হলো কোমলমতি। আবেগের বশবর্তী হয়ে যেন অন্যকোনো ঘটনা না ঘটে, সেজন্য তাদেরকে আমরা নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এর বাইরে অন্যকিছু না। এখানে হাজারীবাগ থানার ওসি এসেছেন সশরীরে। এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। সবার সঙ্গে কথা বলেন তিনি।