জানাজার জন্য করা অজু দিয়ে অন্য নামাজ পড়ার বিধান

জানাজার জন্য করা অজু দিয়ে অন্য নামাজ পড়ার বিধান

ছবি: সংগৃহীত

অজু মানে হলো পবিত্রতা অর্জন। নামাজ পড়ার জন্য অজু আবশ্যক। অজু ছাড়া নামাজ হয় না। কোরআন স্পর্শ করার জন্য অজু শর্ত। অজুর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা বান্দার গুনাহ মাফ করেন। বিপুল সওয়াব ও পুণ্য দান করেন।

অজু করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আল্লাহর রাসুল (সা.) অজুতে কোনো স্থান শুষ্ক থাকার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। যেন কোনো অঙ্গ শুষ্ক না থাকে। কারণ, শুষ্ক থাকলে জাহান্নামের আগুনে জ্বলবে বলে সতর্ক করেছেন।

অজুর বিধান সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘হে মুমিনরা! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমাদের মুখ ও হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করবে। এবং মাথা মাসেহ করবে আর পা টাখনু (গ্রন্থি) পর্যন্ত ধৌত করবে...। ’ (সুরা মায়েদা, আয়াত: ৬)

নুআইম মুজমির (রহ.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবু হুরায়রা (রা.)-এর সঙ্গে মসজিদের ছাদে উঠলাম। অতঃপর তিনি অজু করে বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন আমার উম্মতকে এমন অবস্থায় ডাকা হবে যে অজুর প্রভাবে তাদের হাত-পা ও মুখমণ্ডল উজ্জ্বল থাকবে। তাই তোমাদের মধ্যে যে এ উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে নিতে পারে, সে যেন তা করে।’ (বুখারি, হাদিস: ১৩৬)

কেউ মারা গেলে তার জানাজার নামাজ আদায় করা ফরজে কিফায়া। জানাজা নামাজের ফজিলত সম্পর্কে মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ আদায় করে, সে এক ‘কিরাত’ পরিমাণ নেকি লাভ করে আর যে ব্যক্তি কোনো মৃত ব্যক্তির জানাজার নামাজ আদায় করে এবং তার দাফনের কাজে অংশগ্রহণ করে, সে দুই ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব লাভ করে। কোনো এক সাহাবি প্রশ্ন করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! দুই কিরাত কী?’ নবী করিম (সা.) বললেন, ‘দুই কিরাতের ক্ষুদ্রতম কিরাত ওহুদ পাহাড়ের সমান।’ (ইবনে কাছির)

জানাজার নামাজের জন্য অজু করতে হয়। জানাজার নামাজের জন্য অজুদ করে সেই অজুতে অন্য ফরজ, নফল বা সুন্নত নামাজ পড়া যাবে কিনা? 

জানাজার নামাজের জন্য করা অজু দিয়ে ফরজ, নফল সব ধরনের নামাজ আদায় করা জায়েজ। তাই কেউ জানাজার নামাজের জন্য অজু করলে সেই অজু দিয়ে ফরজ নামাজ আদায় করতে পারবে এবং তার সেই নামাজ হয়ে যাবে। হাদিসে বর্ণিত পদ্ধতিতে অজু করলে সেই অজু দিয়ে যেকোনো নামাজ আদায় করা যায় এবং ওই অজুতে এমন সব ইবাদতও করা যায় যেসব ইবাদতের জন্য অজু করা জরুরি।