নাটোরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ

নাটোরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ

ছবি: সংগৃহীত

নাটোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহম্মেদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে দিনভর বিক্ষোভ, সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও অভিভাবকরা। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছয় সদস্যের দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রবিবার সকাল ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রী ও তাদের কয়েকজন অভিভাবক। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে বিভিন্ন শ্রেণিতে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হচ্ছে। বার্ষিক ভোজ ও টিফিন বরাদ্দের নামেও অর্থের অনিয়ম হচ্ছে। তাদের দাবি, ৯ টাকা ৫০ পয়সার টিফিন কিনে ভাউচারে ১৮ টাকা দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্রের জন্য প্রায় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও দুই বছর পরও পরিচয়পত্র দেওয়া হয়নি।

তাদের আরও অভিযোগ, আইসিটি ফান্ডে প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ক্রীড়া ফান্ডে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও এসব খাতে শিক্ষার্থীদের কোনো সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। গত পাঁচ বছরে ম্যাগাজিন প্রকাশের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করা হলেও কোনো ম্যাগাজিন প্রকাশিত হয়নি।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা পাশের মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ছাত্রী ও অভিভাবকদের শান্ত করার চেষ্টা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান খান বাবুল চৌধুরী এবং জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম। তারা ঐতিহ্যবাহী এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভিযোগগুলো সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বিক্ষোভের খবর পেয়ে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবুল হায়াত, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজহার আলী ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুস্তুম আলী হেলালী ঘটনাস্থলে যান। তারা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগ শোনেন। দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং বিক্ষোভকারীরা কর্মসূচি আপাতত শেষ করেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সিনিয়র সহকারী কমিশনার আবিদা সিফাতকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্য কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আজহার আলীকে। এই কমিটি শিক্ষার্থীদের টিফিন, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শ্রেণিতে উপস্থিতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় তদন্ত করবে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ইউএনও আজহার আলী।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাসমিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। আমি নিয়মনীতি অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করছি। হয়তো কেউ ভুল তথ্য উপস্থাপন করে বা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।’

নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) আবুল হায়াত দুটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।