উপকূলীয় ১৪ জেলার সুরক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প
সংগৃহীত
উপকূলীয় ১৪ জেলার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিচ্ছে সরকার। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প আগামী অর্থবছর থেকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সচিবালয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের নয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান অঞ্চলের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ‘বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক ফ্লাড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম (ফ্লাড এমপিএ)’ এবং ‘কোস্টাল রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন আলোচকরা।
এ সময় ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করা। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী। বিশেষ করে উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
প্রকল্পটির আওতায় উপকূলীয় ১৪ জেলার অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্যানিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম নেয়া হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়েও প্রকল্পে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার প্রভাব মোকাবেলায় পানি শোধন ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমিয়ে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হবে। এর মাধ্যমে উপকূলীয় মানুষের পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।