মধুমতির ভাঙনে সর্বহারা শত শত পরিবার, জরুরি বাঁধের দাবি

মধুমতির ভাঙনে সর্বহারা শত শত পরিবার, জরুরি বাঁধের দাবি

ছবি: সংগৃহীত

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় মধুমতি নদীর ভাঙনে শত শত পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। নদীর ভাঙনে চোখের সামনে বসতভিটা, গাছপালা ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় লোকজন জানান, চার দশকের বেশি সময় ধরে মধুমতি নদীর ভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চিত্র বদলে যাচ্ছে। এ বছর চুড়ারগাতির তালতলা বাজারসংলগ্ন এলাকা, চরগয়াশপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর, জাঙ্গালীয়া, হরেকৃষ্ণপুর, ঝামা ও দেউলি এলাকায় ভাঙন তীব্র হয়েছে।

চরপুকুরিয়া থেকে চরগয়াশপুর পর্যন্ত এক কিলোমিটারের বেশি এলাকাজুড়ে প্রতিদিন ভাঙন দেখা দিচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সময়ও পাচ্ছে না। ইতিমধ্যে মোছা. নিহার বেগম, শরিফুল, বাকেল আহমেদ, মুক্তার, আরিফুল, নায়েব, মনিরুল, রবিউল, ইবাদত ও শাহাদাতসহ ২০ থেকে ২৫টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর সঙ্গে মসজিদ, রাস্তাঘাট, গাছপালা ও ফসলি জমিও নদীতে চলে গেছে।

সরেজমিনে চুড়ারগাতি, চরগয়াশপুর, কাশীপুর, বসুরধুলজুড়ী, ভোলানাথপুর, রুইজানী, গোপালনগর, জাঙ্গালীয়া, ধুপুড়িয়া, রায়পাশা, চরপাচুড়িয়া, হরেকৃষ্ণপুর, আড়মাঝি, ঝামা, দেউলি ও কালীশংকরপুর এলাকায় নদীতীরে ভাঙনের চিত্র দেখা গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে অনেকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ একাধিকবার ভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়ে সরকারি জায়গায় বসবাস করছেন।

চুড়ারগাতির বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমার দীর্ঘ জীবনে চুড়ারগাতিসহ অনেক গ্রামে নদী রক্ষায় সরকারকে বাঁধ নির্মাণ, জিও ব্যাগ বা অন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখিনি। সরকারের কাছে অনুরোধ, নদীর বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের এলাকা ও মানুষকে রক্ষা করা হোক।’

মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ কর্মকার বলেন, মধুমতি নদীর ভাঙনের বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন। ইতিমধ্যে ঝামা ও হরেকৃষ্ণপুর এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় ভাঙন বেশি, সেগুলোর বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বির আহম্মেদ বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নদীভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্প নেওয়া হবে। দ্রুতই এর বাস্তবায়ন হবে বলে আশা করছেন তিনি।