জয়েন্টের ব্যথাকে সাধারণ ভেবে ভুল করছেন না তো, জেনে নিন করণীয়
ফাইল ছবি
শরীরের জয়েন্টে বা গাঁটে ব্যথা হলে সাধারণ শারীরিক সমস্যা ভেবে নেয়া হয়। কেউ কেউ বলেন, বয়স বাড়ার কারণে হয়েছে। এ জন্য বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেয়া হয় না। এভাবে অবহেলা করার কারণে এক সময় হঠাৎ করেই শারীরিক জটিলতা তীব্র হয়ে ওঠে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।
গাঁটের ব্যথাকে সবসময় বয়সজনিত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে এড়িয়ে যাওয়া বা আপনাআপনি সেরে যাবে ভেবে বসে থাকা ঠিক নয়।
ভারতীয় অর্থোপেডিক সার্জন ডা. পুস্কর চাওলা বলেন, কঠোর পরিশ্রম বা শারীরিক কর্মকাণ্ডের পর সাময়িক অস্বস্তি বিশ্রামের মাধ্যমে দূর হতে পারে। কিন্তু ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে বা দিন দিন বাড়তে থাকলে, তা অনেক সময় অস্টিওআর্থ্রাইটিস, প্রদাহজনিত বা বাতের ব্যথা, পুরোনো কোনো আঘাত, পেশির দুর্বলতা বা গাঁটের ওপর অতিরিক্ত চাপের মতো অন্তর্নিহিত সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
ডা. পুস্কর বলেন, প্রাথমিক লক্ষণগুলোর প্রতি মনোযোগ দেয়া এবং জীবনযাত্রার ছোটখাটো সাধারণ কিছু পরিবর্তন আনা সম্ভব হলে গাঁটের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও স্বাভাবিক হাঁটাচলা বজায় রাখতে উপকারিতা মিলে। এ জন্য উল্লেখযোগ্য কয়েকটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।
সেসব জেনে নেয়া যাক―
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা
গাঁটের ব্যথা এড়ানোর প্রধান অভ্যাস হলো শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা। এ ক্ষেত্রে ডা. পুস্কর হালকা বা ‘লো-ইমপ্যাক্ট’ ব্যায়াম বেছে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। যা গাঁটের অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে না। তিনি বলেন, হাঁটাচলা করা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, শরীর প্রসরিত এবং শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম আপনার পেশির শক্তি, নমনীয়তা ও জয়েন্টের স্থায়িত্ব বাড়াতে কাজ করতে পারে। ব্যায়ামের তীব্রতা বা সময়সীমা হঠাৎ বাড়ানো যাবে না, বিশেষ করে যদি আগে থেকেই ব্যথা থাকে।
ধীরগতিতে ও ক্রমান্বয়ে ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানোই নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর।
শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখা
এ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাঁটু, কোমর ও গোড়ালির জন্য ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত। ডা. পুস্কর বলেন, শরীরের অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টগুলোর ওপর চাপ বাড়ায়, যা দ্রুত জয়েন্ট ক্ষয় হওয়া এবং অতিরিক্ত অস্বস্তির জন্য দায়ী হতে পারে। পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার বা হোল গ্রেইন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত সুষম খাদ্য শরীরের সার্বিক পেশি ও অস্থির স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ভূমিকা রাখে।
বসার ও দাঁড়ানোর ভঙ্গি ঠিক রাখা
ডা. পুস্করের ভাষ্যমতে―প্রতিদিনের অভ্যাসে সঠিক ভঙ্গি এবং শারীরিক কৌশলগুলো বজায় রাখা উচিত। দীর্ঘ সময় ধরে একই ভঙ্গিতে বসে থাকার অভ্যাস থাকলে তা এড়িয়ে চলুন। মাঝে মধ্যে বিরতি নিয়ে কিছুটা হাঁটাচলা করুন এবং যেকোনো ভারী বস্তু তোলার সময় সঠিক কৌশল ব্যবহার করুন। পাশাপাশি আরামদায়ক ও সঠিক সাপোর্ট দেয়, এমন জুতা ব্যবহার করুন। এতে হাঁটু, গোড়ালি ও পায়ের ওপর অনাবশ্যক চাপ বেশ কমবে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া
জয়েন্ট সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম ও শারীরিক ক্লান্তি দূর করার গুরুত্বও অনেক। ডা. পুস্কর বলেন, কম ঘুম ব্যথা সহ্যের অনুভূতি বাড়াতে পারে এবং অস্বস্তির সঙ্গে মানিয়ে নেয়া কঠিন করে। ব্যায়ামের পর শরীরকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে এবং তীব্র ব্যথার মধ্যেও বারবার শরীরকে দিয়ে কাজ করানো বন্ধ রাখতে হবে।