উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু হত্যার অভিযোগ, দম্পতি আটক

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে শিশু হত্যার অভিযোগ, দম্পতি আটক

প্রতীকী ছবি

কক্সবাজারের উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মো. ওমাইর নামে চার বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় এক রোহিঙ্গা দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ক্যাম্প-১৫-এর বাসিন্দা আবদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী আনসার বেগম। শনিবার দুপুর ১টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় আবদুর রহমানকে আটক করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর স্ত্রীকে আটক করা হয় এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিল শিশু ওমাইর। সে একই ক্যাম্পের ডি/১ ব্লকের বাসিন্দা আবদুল হামিদের ছেলে। শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে জামতলী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা তাকে উদ্ধারে অনুসন্ধান শুরু করেন।

গত ৯ অক্টোবর শিশুটির বাবা আবুল হামিদ একই ক্যাম্পের আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও রোহিঙ্গা মাঝিদের সহযোগিতায় আবদুর রহমানকে শনাক্ত করে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আবদুর রহমান শিশুটিকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

উখিয়ার ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/১৩ ব্লকে আবদুর রহমানের বসতঘরসংলগ্ন এলাকায় একটি ময়লার ট্যাংকের পাশে টিনের বেড়ার ভেতর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে লুকিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামতলী পুলিশ ক্যাম্প-১৫-এর পরিদর্শক তারেক মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর উখিয়া থানা-পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আবদুর রহমান ও আনসার বেগমকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।