মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগে আসছে বড় পরিবর্তন
প্রতীকী ছবি।
মাধ্যমিকে শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনছে সরকার। এ লক্ষ্যে ২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘প্রফেশনালাইজেশন ফর এনহ্যান্সড লার্নিং প্রজেক্ট’ নামে একটি প্রকল্পের প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। প্রকল্পের আওতায় নিয়োগের আগেই প্রার্থীদের প্রাক্-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগে শিক্ষক পদে নিয়োগের পর নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রশিক্ষণের আওতায় আসতেন।
মাউশি জানিয়েছে, ‘প্রফেশনালাইজেশন ফর এনহ্যান্সড লার্নিং প্রজেক্ট’ নামের প্রকল্পটি ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পুরো অর্থ বিদেশি অনুদান থেকে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয়ের বড় অংশ রাখা হয়েছে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামত এবং পেশাগত সেবা খাতে।
প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রকৃত প্রাক্-চাকরিকালীন (প্রি-সার্ভিস ট্রেনিং) প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। কিন্তু শিক্ষকতার মতো পেশায় প্রবেশের আগে প্রয়োজনীয় পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন এবং মানসিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকল্পের প্রস্তাবে যোগ্য ব্যক্তিদের শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের সুযোগ দিতে প্রাক্-চাকরিকালীন শিক্ষক-শিক্ষা মডেল প্রবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই মডেলের আওতায় পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে প্রি-সার্ভিস শিক্ষক প্রশিক্ষণ মডেল চালু করা হবে। একই সঙ্গে প্রাক্-চাকরিকালীন শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো ও সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রস্তাবনায়, শিক্ষকদের পেশাদারত্ব বৃদ্ধিতে ‘শিক্ষক পেশাগতীকরণ নির্দেশিকা (টিপিজি)’ এবং ‘শিক্ষক পেশাগত উন্নয়ন কাঠামো (টিপিডিএফ)’ প্রণয়নের কথাবলা হয়েছে। পাশাপাশি চাকরিতে থাকা শিক্ষকদের জন্য অব্যাহত পেশাগত উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদ্যমান ১০টি প্রশিক্ষণ কোর্স হালনাগাদের পাশাপাশি আরও ১০টি নতুন কোর্স চালুর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রশাসক, শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের চাকরিকালীন পেশাগত উন্নয়নে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে ২০ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষা প্রশাসক এবং দেড় হাজার প্রধান শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাউশির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের আগে প্রশিক্ষণের নতুন মডেল পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। পরে এ মডেলের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে এর ব্যাপ্তি বাড়ানো হবে। তবে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে নাকি বাধ্যতামূলক করা হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং) অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ড. সরদার মো. কেরামত আলী বলেন, প্রকল্প প্রস্তাবটি বর্তমানে অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়।