সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

সাতক্ষীরায় যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা

সংগৃহীত ছবি

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতের নিহতের বড় ভাই জলিল বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যার আগে দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় প্রথম দফায় গণপিটুনির শিকার হন শামীম। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে রাত ৯টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাকে আবারও মারধর করে। এরপর মধ্যরাতে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত শামছুর রহমানের ছেলে। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন বলে দাবি পরিবারের।

 

স্থানীয়রা জানান, শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে লাইভ করেন ফজলুল হক আমিনী নামের এক ব্যক্তি। এসময় তিনি জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।

পরে কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারের সামনে বিক্ষুব্ধ লোকজন জড়ো হন। সেখানে চিকিৎসাধীন শামীমকে বের করে প্রথম দফায় মারধর করা হয়।

ফজলুল হক আমিনী বলেন, ‘শামীম গত ছয় মাস ধরে আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করে আসছিলেন। প্রতিবেশী বা অন্য কেউ তার সঙ্গে কথা বললে তিনি ইসলামবিদ্বেষী কথাবার্তা বলতেন। আজ তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।

’

শামীমের ছোট ভাই সাগর হোসেন জানান, তারা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদরাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কখনো স্বাভাবিক আচরণ করতেন, আবার কখনো অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলতেন। তার চিকিৎসা চলছিল। তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হতে পারত। এভাবে পিটিয়ে তাকে মেরে ফেলা হলো কেন? আমরা কিছুই করতে পারিনি। সামনে এগোলে আমাদেরও মারধর করা হতো।

তিনি আরো জানান, দুদিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ঝগড়া হয়। ওই সময় তাদের কথাবার্তা আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেন বলে তাদের ধারণা। এতে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঝগড়ার পর তার বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে কুলিয়ার গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আবারও মারধর করে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

দেবহাটা থানার ওসি এইমএম শাহীন জানান, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দুই দফা গণপিটুনি দিলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।