ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের ভিসা বন্ধের হুমকি যুক্তরাজ্যের

ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের ভিসা বন্ধের হুমকি যুক্তরাজ্যের

সংগৃহীত ছবি

ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা না করলে ইরিত্রিয়ার নাগরিকদের ভিসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে ইরিত্রিয়ার কূটনীতিবিদদের চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে। অনুমতি ছাড়া তারা লন্ডন থেকে ৬০ কিলোমিটারের বেশি দূরে যেতে পারবেন না। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থাও বন্ধ করা হবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ইরিত্রিয়া সহযোগিতা করছে না।

তবে এ পদক্ষেপের সমালোচনা করে একে ‘রাজনৈতিক লোকদেখানো কৌশল’ বলেছে ইরিত্রিয়া। দেশটির দূতাবাসের অভিযোগ, যুক্তরাজ্য ফেরত পাঠানোর বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য দেয়নি এবং অর্থবহ আলোচনাতেও রাজি হয়নি। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত জুনে শেষ হওয়া ১২ মাসে ছোট নৌকায় করে দেশটিতে আসা অভিবাসীদের ১৮ শতাংশই ছিলেন ইরিত্রিয়ার নাগরিক।

এ সময়ে ৫ হাজার ৮০০ জনের বেশি ইরিত্রীয় ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেন। অথচ একই সময়ে মাত্র সাতজন ইরিত্রীয়কে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক ম্যাডেলিন সাম্পশন মনে করেন, ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে এ পদক্ষেপের প্রভাব সীমিত হতে পারে। তার মতে, ইরিত্রিয়া থেকে আসা বেশির ভাগ আশ্রয়প্রার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানো কঠিন। কারণ, তাদের বড় অংশ আশ্রয় পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন।

ইরিত্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একদলীয় শাসন চলছে। ১৯৯৩ সালে স্বাধীন হওয়ার পর দেশটিতে আর কোনো নির্বাচন হয়নি। বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ, জোরপূর্বক শ্রম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করার অভিযোগও রয়েছে। এসব কারণে অনেক তরুণ দেশটি ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

এর আগে নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে সহযোগিতা না করায় অ্যাঙ্গোলা, নামিবিয়া ও গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধেও ভিসা বন্ধের হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। পরে সহযোগিতা বাড়ানোয় কঙ্গোর ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়।

 

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় করে ২০ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ দেশটিতে এসেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৪০ শতাংশ কম।

এদিকে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে ৪০ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষকে ফেরত পাঠানো বা বহিষ্কার করা হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৮ শতাংশ বেশি। তাদের মধ্যে ৬ হাজারেরও কম ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন।