রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করছে যেসব দৈনন্দিন অভ্যাস
ফাইল ছবি
মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা (ইমিউন সিস্টেম) শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ, জীবাণু ও অসুস্থতার হাত থেকে সুরক্ষা দেয়। তবে আমাদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রার কিছু অনিয়ম ও অভ্যাসের কারণে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
অনেক সময় না জেনেই আমরা এমন কিছু অভ্যাস গড়ে তুলি, যা শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। চলুন, জেনে নেই দৈনন্দিন জীবনের এমন ৯টি অভ্যাস এবং সেগুলো থেকে মুক্তি পাবেন যেভাবে।
দিনের অধিকাংশ সময় ঘরে থাকা
দিনের বেশির ভাগ সময় ঘরের ভেতরে কাটালে সূর্যের আলো থেকে পাওয়া পুষ্টি ও ভিটামিন ডি পাওয়া সম্ভব হয় না। ভিটামিন ডি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে সরাসরি কাজ করে।
এ ছাড়া প্রাকৃতিক আলো শরীরের ২৪ ঘণ্টার অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা ঘুম নিয়ন্ত্রণ ও শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা স্ট্রেস
মাঝে মাঝে মানসিক চাপ অনুভব করা স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘস্থায়ী চাপ রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। স্ট্রেস বা চাপ উপেক্ষা করলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। চাপ সামলাতে নিয়মিত ধ্যান বা মেডিটেশন করা, ডায়েরি লেখা কিংবা প্রকৃতির মাঝে হাঁটার অভ্যাস বেশ কার্যকর।
রাত ৯টার পর বা দেরিতে খাবার খাওয়া
রাতে ঘুমানোর ঠিক দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে বা রাত ৯টার পর ভারী খাবার খেলে তা পরিপাক ও বিপাক ক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়। এর ফলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং প্রদাহ বাড়ে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক রাখতে রাতের খাবার দ্রুত শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
পর্যাপ্ত পানি পান না করা
পানিশূন্যতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় এবং কোনো অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে। শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা সচল রাখতে একজন নারীর দৈনিক অন্তত ৯ কাপ (প্রায় ২.২ লিটার) এবং পুরুষের অন্তত ১৩ কাপ (প্রায় ৩ লিটার) পানি পান করা প্রয়োজন।
অতিরিক্ত ক্যালরি কমিয়ে খাওয়া
ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে যদি হঠাৎ খাদ্যাভ্যাস থেকে অতিরিক্ত ক্যালরি (প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত) কমিয়ে দেওয়া হয়, তবে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই ওজন কমানোর সময় ক্যালরির পাশাপাশি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজির মতো পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা জরুরি।
সামাজিক যোগাযোগের অভাব
একাকিত্ব বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতা শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরই প্রভাব ফেলে না, এটি শরীরে প্রদাহজনিত সমস্যা বাড়িয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো বা সামাজিক কাজে যুক্ত থাকা দীর্ঘায়ু ও সুস্থ বার্ধক্যের জন্য সহায়ক।
প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত বা আল্ট্রা-প্রসেসড খাবার শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি করে এবং অনাক্রম্যতার ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলে অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ এবং অটোইমিউন ব্যাধির ঝুঁকি বাড়ে। তাই প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে তাজা ও স্বাভাবিক খাবার বেছে নেওয়া উচিত।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ
অনিয়ন্ত্রিত দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ শরীরের নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ শরীরে বিভিন্ন রোগ ডেকে আনতে পারে। দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হওয়ার মতো দুশ্চিন্তা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
শরীরচর্চায় অতিরিক্ত পরিশ্রম (ওভারট্রেনিং)
নিয়মিত ব্যায়াম স্বাস্থ্য রক্ষা করলেও পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ওভারট্রেনিং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর উল্টো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই শরীরচর্চার রুটিনে পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা রাখা আবশ্যক।