ইবিতে বিশ্ব ফেজ সপ্তাহ পালিত
ছবি সংগৃহীত।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মধ্যে বিকল্প ও সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ‘ব্যাকটেরিওফেজ’ বা ফেজ থেরাপির সম্ভাবনা তুলে ধরে বিশ্ব ফেজ সপ্তাহ-২০২৬ পালিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ‘From AMR Challenges to Precision Antimicrobial Solutions’— প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘ব্যাকটেরিওফেজ বায়োলজি অ্যান্ড জিনোমিক্স ল্যাব’-এর উদ্যোগে সচেতনতামূলক র্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মসূচির শুরুতে বিভাগের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। এরপর র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ফেজ ভাইরাসের গঠন, কার্যকারিতা, উপকারিতা এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিষয়ে সচেতনতামূলক বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। এসব অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বা ‘সুপারবাগ’ বর্তমানে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে ধ্বংস করতে সক্ষম ‘ব্যাকটেরিওফেজ’ ভবিষ্যৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানে একটি সম্ভাবনাময় ও সুনির্দিষ্ট সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, আধুনিক বিশ্বে ভাইরাস শনাক্তকরণসহ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং মেডিকেল সায়েন্সের নিত্যনতুন উদ্ভাবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার বিকল্প নেই। মানবজীবনে এসব প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরো বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী হতে এবং নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করে, যা সর্বতভাবে মানবকল্যাণকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। এই ডিসিপ্লিনের সঙ্গে জড়িত শিক্ষক ও গবেষকদের নিরলস গবেষণা এবং অধ্যবসায় আমাদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আমি আশাবাদী।
কর্মসূচির মাধ্যমে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের মতো বৈশ্বিক স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পাশাপাশি ফেজ গবেষণার সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। আয়োজকরা মতে, গবেষণাভিত্তিক এমন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের আধুনিক জীবপ্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন সম্ভাবনার দিকে আগ্রহী করে তুলবে।
উল্লেখ্য, ব্যাকটেরিওফেজ হলো এমন এক ধরনের ভাইরাস, যা নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ ও ধ্বংস করতে পারে। ফলে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প বা পরিপূরক হিসেবে ফেজ থেরাপি নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা বাড়ছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘ব্যাকটেরিওফেজ বায়োলজি অ্যান্ড জিনোমিক্স ল্যাব’ও এ ধরনের আধুনিক ও যুগোপযোগী গবেষণায় কাজ করে যাচ্ছে।