ভবিষ্যৎ ফ্যাসিবাদ রোধে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংগৃহীত
ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরশাসক বা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার উত্থান ঠেকাতে প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালান্স নিশ্চিত করে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গণতন্ত্র রক্ষায় কার্যকর ‘ওয়াচডগ’ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে।
আজ শনিবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ সেমিনার সিরিজের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক সংকট ও বাকশাল’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর।
জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সুনির্দিষ্ট বিধান থাকা সত্ত্বেও ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশে সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা বাকশাল-পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এর মধ্য দিয়েই ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছিল। ওই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থার পতন ঘটায়।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরবর্তী রাজনৈতিক ধারাকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে জনগণের অভিপ্রায় (পিপলস উইল) প্রতিফলিত হয়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি বিচারকদের জবাবদিহিও আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানই যেন অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু এবং গণভোট-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চায় না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য এবং রাজনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য।
কিশোর ফুটবল টুর্নামেন্ট ক্রীড়াঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে: ত্রাণ মন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট লালমনিরহাটের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আজ লালমনিরহাট জেলা স্টেডিয়ামে ‘জেলা প্রশাসক আলোকিত কিশোর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট, ২০২৬’-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদের আমলে লালমনিরহাট থেকে ক্রীড়া বিদায় নিয়েছিল। বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় খেলাধুলায় প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের মাঝে যে প্রতিভার বিকাশ হচ্ছে তা বিকশিত করতে হবে। পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যেতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক বলেন, ফুটবলকে দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। তিনি বলেন, কিশোর বয়সই ফুটবল খেলার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এই বয়সি ফুটবলারদের যদি সঠিকভাবে পরিচর্যা করা যায় তাহলে দেশের ফুটবলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ হবে। প্রতিমন্ত্রী এ ধরনের টুর্নামেন্ট অন্যান্য জেলায়ও চালু করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
ফাইনাল খেলায় বসুন্ধরা ক্রীড়া চক্র ১-০ গোলে নবাবের হাট আদর্শ ক্লাবকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মুহঃ রাশেদুল হক প্রধানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মোঃ আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হকসহ সরকারি কর্মকর্তা, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।