উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রি ছাড়ালে বরফমণ্ডলে স্থায়ী ক্ষতির হুঁশিয়ারি বিজ্ঞানীদের

উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রি ছাড়ালে বরফমণ্ডলে স্থায়ী ক্ষতির হুঁশিয়ারি বিজ্ঞানীদের

সংগৃহীত ছবি

বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সাময়িকভাবে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়ালেও পৃথিবীর হিমবাহ ও মেরু অঞ্চলের বরফের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। জাতিসংঘ-সমর্থিত এক প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা এ সতর্কতা দিয়েছেন। বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং হিমালয়ের হিমবাহনির্ভর বিপুল জনগোষ্ঠীর পানির নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রায়োস্ফিয়ার ক্লাইমেট ইনিশিয়েটিভ (আইসিসিআই) ও জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে ৮০ জন বিজ্ঞানী প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন। এতে পৃথিবীর বরফ ও তুষারে আচ্ছাদিত অংশকে একসঙ্গে ‘বরফমণ্ডল’ বলা হয়েছে।

শিল্পবিপ্লবের আগের তুলনায় পৃথিবী ইতিমধ্যে প্রায় ১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস উষ্ণ হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে ব্যর্থতার কারণে প্যারিস চুক্তির দেড় ডিগ্রির সীমা সাময়িকভাবে অতিক্রম করা এখন অনিবার্য। তবে সীমার ওপরে থাকার সময় যতটা সম্ভব কমাতে হবে।

পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে যথেষ্ট পরিমাণ কার্বন অপসারণ করে দীর্ঘমেয়াদে উষ্ণায়ন আরও কমানোর তাগিদ দিয়েছেন গবেষকেরা। তাদের মতে, আদর্শ লক্ষ্য হবে ২১৫০ সালের মধ্যে উষ্ণায়ন এক ডিগ্রির নিচে নামানো।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতিতে উষ্ণায়ন ২ দশমিক ৮ ডিগ্রিতে পৌঁছাবে। এতে হিন্দুকুশ হিমালয়ের হিমবাহের বরফের মাত্র ৪১ শতাংশ অবশিষ্ট থাকবে। উষ্ণায়ন দেড় ডিগ্রিতে সীমিত থাকলে টিকে থাকবে ৮৩ শতাংশ। এই অঞ্চলের হিমবাহ বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের পানির উৎস।

গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বিশাল বরফস্তর এখন ১৯৯০-এর দশকের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ দ্রুত গলছে। উষ্ণায়ন সাময়িকভাবে সীমা ছাড়িয়ে পরে দেড় ডিগ্রিতে ফিরলেও এসব বরফস্তরের ক্ষয় চলবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রায় তিন ডিগ্রি উষ্ণায়নে মাটির উপরিভাগের কাছাকাছি থাকা প্রায় সব স্থায়ীভাবে জমাট মাটি গলে যেতে পারে। এতে আরও গ্রিনহাউস গ্যাস বের হবে। সমুদ্রস্রোতে বড় ধরনের বিঘ্ন এবং সমুদ্রের অম্লতা বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও হিমবাহবিজ্ঞানী জেমস কার্কহাম বলেন, উষ্ণায়নের সামান্য বৃদ্ধিতেও বরফ ও তুষার দ্রুত সাড়া দেয়। কিন্তু ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শত থেকে হাজার বছর লাগতে পারে; কিছু পরিবর্তন কার্যত অপরিবর্তনীয় হয়ে যায়।